Category Archives: অর্থনীতি

বাণিজ্যমেলায় ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় চলছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির মহাউৎসব। গত ২০ দিনে আদায় হয়েছে মাত্র এক কোটি টাকা। অথচ মেলা থেকে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দশ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র বলছে, মেলায় অংশ নেয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে।

শনিবার মেলার ২১তম দিন দিন হলেও অনেকে ভ্যাট দিয়েছেন মোটে ৩/৪ দিনের। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার রক্ষা করলেও সব পণ্য বিক্রির হিসাব সেখানে অন্তর্ভুক্ত করছে না। ছোট দোকানগুলো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাব রাখছে, তারাও সব হিসাব বইতে লিখছে না। যতোটুকু রাখছে তার ওপরে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করার কথা থাকলেও সেটুকু পরিশোধ করছেন না।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, বেশির ভাগ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যারা মেলায় এসেছেন তারা ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন। ফাঁকির পর্যায়টা চরমে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ ২/৩শ টাকা ভ্যাট দিচ্ছে। প্রতিদিনের ভ্যাট পরেরদিন পরিশোধের নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না। ২০ দিনের মধ্যে কেউ কেউ দিয়েছেন ২/৩ দিনের।
সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্যাট আদায় ছিলো ৫০ লাখ টাকা। ২০ তারিখ পর্যন্ত সেটা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ছয় লাখ চার হাজার ৫৩ টাকা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এনবিআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী কার্যালয়ে বসছেন। যারা ভ্যাট পরিশোধ করতে আসছে তাদের নথিপত্র যাচাই করে ভ্যাট নিয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মেলায় অংশ নেয়া লুবান লেদার গত ২০ দিনে ৮০০ টাকা ভ্যাট দিয়েছে। একইভাবে আপন এইচএএস ২০ দিনের বিক্রির ওপরে মাত্র তিন দিনের ভ্যাট দিয়েছে দেড় হাজার টাকা। আরেকটি প্রতিষ্ঠান বেস্ট অ্যালুমিনিয়াম ভ্যাট দিয়েছে ১১ দিন। এসব অনিয়মের কারণে শনিবার লুবানকে ২০ হাজার, আপন এইচএএসকে ১০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা করেছে এনবিআর।
সংস্থাটি শুক্র ও শনিবার এবং অন্যান্য ছুটিরগুলোতে বেশি বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভ্যাট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবারের জন্য সেটা এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।

শনিবার সোনালী ব্যাংকের বুথে ভ্যাট পরিশোধ করতে আসা জিনাস ট্রেডিংয়ের কর্মী হাবীবুর রহমান জানান, প্রতিদিন তারা এক হাজার টাকা করে ভ্যাট দেন। তবে শুক্রবারের জন্য আরো দেড় হাজার টাকা বেশি পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

উৎসঃ পুর্বপশ্চিম

চুরির টাকা নিয়ে বাহাদুরি করছে রিজাল : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক চুরির এ অর্থ নিয়ে বাহাদুরি করছে। এটা ঠিক না। এ অর্থের মালিক বাংলাদেশ। মালিককে (বাংলাদেশ) এ অর্থ ফেরত দিতেই হবে।

অর্থমন্ত্রী আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিপাইনের সঙ্গে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না। এ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে কেউ সুবিধা পেতে পারেন। এটা আমরা দিতে পারি না।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ফিলিপাইনের আদালতে আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি। চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করে। এ কমিশন এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে। এ প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী একাধিকবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাইবার চক্রের হ্যাকাররা সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে। বিপুল পরিমাণ এ অর্থের মধ্যে স্থানান্তরিত করে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) পাঠানো হয়। আর শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়ান ব্যাংকে যায় ২০ মিলিয়ন ডলার।

সুইফট কোডের মাধ্যমে অভিনব এই চুরির পরপরই শ্রীলঙ্কার অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও ফিলিপাইনে আসা সব অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। আট কোটি ১০ লাখ ডলারের অধিকাংশই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন স্থানের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। এভাবেই ওই টাকা আইনগতভাবে বৈধ টাকায় (সাদা টাকা) পরিণত করেছিল চোররা।

পরবর্তীকালে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে অর্থপাচারে সম্পৃক্ত ক্যাসিনো মালিক কিম অং দেড় কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিন ধাপে তিনি ওই টাকা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দেন তিনি। পরে এই অর্থ ফেরত পেতে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আইনি নথি ও প্রতিবেদন লিপিবদ্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছিল।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসকে’ (বিএসপি) বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি হওয়া টাকার এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত।

মাত্র ৮ জনের হাতে ৩৬০ কোটি মানুষের টাকা!

বিশ্বের ৩৬০ কোটি দরিদ্র মানুষের টাকার সমান টাকা মাত্র আটজন ব্যক্তির হাতে। আর বাকি অর্ধেক দরিদ্র মানুষের সম্পদ রয়েছে ৬২ জন ধনকুবেরের হাতে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতা সংস্থা অক্সফাম তাদের এক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরেছে।

ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্য আশঙ্কার চেয়েও বহুগুণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে দাতা সংস্থাটি। এই সংস্থাই এর আগে জানিয়েছিল মাত্র ১ শতাংশের হাতে বিশ্বের সব মানুষের সমান সম্পদ।

সম্পদশালী এই আটজনের ছয়জনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যার মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোসফটের বিল গেটস থেকে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। বাকি দুজনের একজন স্পেন ও অপরজন মেক্সিকাের।

অক্সফামের প্রতিবেদনটি ডাভোসে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও উপস্থাপিত হবে। সেবা সংস্থাটিতে কাজ করা গবেষক ও কর্মীরা বলছেন, এই গবেষণা উপস্থাপন দাতাদের আরও উৎসাহিত করবে।

অক্সফামের প্রতিবেদনটি ফোর্বস এবং বার্ষিক ক্রেডিট স্যুইস গ্লোবাল ওয়েলথের ডাটাবুকের তথ্যে উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

আর এই জরিপ নির্ধারণ করতে একজন ব্যক্তির সম্পদ, প্রধানত সম্পত্তি এবং জমি ও ঋণের মান ব্যবহার করা হয়েছে।

আট বিলিয়নিয়ারের মধ্যে যারা রয়েছেন-
১. বিল গেটস(যুক্তরাষ্ট্র): মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা (সম্পদ ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
২.আমানসিও ওর্তেগা (স্পেন): জারা ওনার ইন্ডিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা (সম্পদ ৬৭ বিলিয়ন ডলার)।
৩. ওয়ারেন বাফেট (যুক্তরাষ্ট্র): শেয়ার মার্কেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (সম্পদ ৬০.৮ বিলিয়ন ডলার)।
৪. কার্লোস সিলিম হেলু(মেক্সিকো): গুরুপো কারসোর মালিক (সম্পদ ৫০ বিলিয়ন ডলার)।
৫. জেফ বিজোস(যুক্তরাষ্ট্র): প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমাজন (সম্পদ ৪৫.২ বিলিয়ন ডলার)।
৬.মার্ক জাকারবার্গ(যুক্তরাষ্ট্র): সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেসবুক (সম্পদ ৪৪.৬ বিলিয়ন ডলার)।
৭. ল্যারি এলিসন(যুক্তরাষ্ট্র): সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ওরাকল (সম্পদ ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার)।
৮. মাইকেল ব্লুমবার্গ(যুক্তরাষ্ট্র): ব্লুমবার্গ এলপির মালিক (সম্পদ ৪০ বিলিয়ন ডলার)।

-চ্যানেল আই অনলাইন

এস আলম গ্রুপের দখলে ইসলামী ব্যাংক

হঠাৎ বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় কারা এলো তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ব্যাংকটি জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীমুক্ত করার মাধ্যমে এর ব্যবসায়িক মালিকানা কে বা কারা নিলো তা নিয়ে স্পষ্ট করে কেউ মুখ খুলছেন না।

তবে সূত্র বলছে, ব্যাংকটির মালিকানা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কাছে দেয়া হয়েছে। যদিও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। তবে সেগুলোর পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ নিয়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “আপনার তথ্য ঠিক নয়। আর এ বিষেয়ে আপাতত মন্তব্য করার সময় আসেনি।” এরপর আর কিছু বলতে চাননি চট্টগ্রামের এই বড় ব্যবসায়ী।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয় গত ৫ জানুয়ারি। এরপর ৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান।

কিন্তু ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ব্যাংকের দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই আসেন ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় গ্রাহক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি সরাসরি ১৬তলায় চলে যান। সেখানে প্রথমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে বসেন। পরে বোর্ডরুমে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানসহ পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করেন।

সূত্র বলছে, তিনি ওই সময় ব্যাংকের পরিচালকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। প্রায় সোয়া ঘণ্টা তিনি ব্যাংকে ছিলেন। পরে ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক তাকে নিচ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরাস্তু খান জানান, সাইফুল আলম নতুন পর্ষদকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন। এর বেশি কিছু নয়।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) পরিচালনা পর্ষদের সভায় আরমাডা স্পিনিং মিলের পক্ষে পরিচালক হিসেবে আরাস্তু খান যোগ দেন। এরপরই চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের পদত্যাগপত্র উপস্থাপন করেন।

এরপর তিনিও চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পরই মুস্তাফা আনোয়ার সভা থেকে বের হয়ে যান।

জানা যায়, ব্যাংকটিতে নতুন এমডি করা হয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিঞাকে। জানা গেছে, পাশাপাশি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জাহিদুল কুদ্দুস মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম। তিনি মোহাম্মদ সাইফুল আলমের ভাই। ইউনিয়ন ব্যাংকের যাত্রার শুরুর দিকে আবদুল হামিদ মিঞাকে ব্যাংকটির এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মালিকানায় এস আলম গ্রুপেরও অংশ আছে। ব্যাংকটি সরকারি-বেসরকারি খাতের ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এস আলম গ্রুপের বিনিয়োগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি এ এ এম জাকারিয়া বর্তমানে ব্যাংকটির পরিচালক।

২০১৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আরাস্তু খানকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।

তবে গত ১৫ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার পরিচালক হিসেবে প্রথম সভায় যোগ দিয়েই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আরাস্তু খান।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের একজন। ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের কাছে এস আলম গ্রুপের ঋণ সাড়ে তিন হাজার কোটির ওপরে বলে জানা গেছে।

নিয়ম মোতাবেক, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের কম পক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হয়।

বস্ত্র খাতের স্বল্প পরিচিত প্রতিষ্ঠান আরমাডা স্পিনিং মিলস ইসলামী ব্যাংকের ২ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনেছে। আরমাডা স্পিনিং মিলের কর্ণধার কে বা কারা তা জানা যায়নি। তাদের কোনো ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে আরাস্তু খান সাংবাদিকদের বলেন, “আরমাডা স্পিনিং মিলসের ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাব।”

সূত্র জানায়, গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এসেছেন এবিসি ভেঞ্চার, গ্র্যান্ড বিজনেস লিমিটেড, এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, প্লাটিনাম এনডেভরস, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ও ব্লু ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিনিধিরা। এসব প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা তেমন পরিচিত নয়।

নিউজবাংলাদেশ

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনর সীমা কমলো

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন সীমা কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দিনে সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে তা পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, কোনো গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে দুই বারে ১৫ হাজার টাকার বেশি ক্যাশ ইন (জমা) করতে পারবেন না। আর মাসে ২০ বারে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক্যাশ ইন করতে পারবেন।

দিনে দুই বারে ১০ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যাবে। একটি মোবাইল হিসাবে ক্যাশ-ইন হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার বেশি ক্যাশ-আউট করা যাবে না।

এতোদিন একজন গ্রাহক দিনে পাঁচবার এবং মাসে ২০ বার নগদ অর্থ জমা করতে পারতেন। আর দৈনিক তিনবার ও মাসে ১০ বার টাকা উত্তোলন করতে পারতেন।

প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জমা ও উত্তোলনের সীমা নির্ধারিত ছিল এতোদিন। মাসে জমা ও উত্তোলনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আগের মতোই প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ হাজার এবং মাসে ২৫ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে।

ইসলামী ব্যাংকের কেউ চাকরিচ্যুত হবে না

ইসলামী ব্যাংকে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হবে। কাউকে চাকরিচ্যুত করা হবে না বলে পরিচালনা পর্ষদ একমত হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আরাস্তু খান ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার ব্যাংকটির এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তনের পর উপ-ব্যবস্থাপনা পদেও (ডিএমডি) চলছে ব্যাপক রদবদল আর পদোন্নতি। ইতোমধ্যে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে চার ডিএমডিকে। এছাড়া শতাধিক পদে রদবদল হয়েছে। নতুন এমডি আবদুল হামিদ মিঞা দায়িত্ব নেয়ার পরই ব্যাংকের বিভিন্ন পদে পরিবর্তন এসেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন কর্মকর্তারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ব্যাংকটি জানায়, ব্যাংকের শরিয়াহ নীতিমালা ও মৌলিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিচালিত হবে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটবে না। শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

জনবল লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসহ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও পেশাদারদের নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নারী অফিসার নিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বাড়ানোসহ পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

উল্লেখ্য, পর্ষদ সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, এমডিসহ ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংক জামায়াতমুক্ত করতেই ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

একই সঙ্গে ব্যাংকটির অন্যান্য পদেও পরিবর্তন আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে মোহাম্মদ মুনিরুল মওলা, মুহাম্মদ মোহন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও আবু রেজা মো. ইয়াহিয়াকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এর আগে তারা ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎসঃ jagonews24

ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হিড়িক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে নিজেদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে নিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকদের অনেকে। দেশের বিভিন্ন শাখায় গত তিন দিনে ঠিক কত সংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে জেলা শহরের কয়েকটি শাখায় খবর নিয়ে দেখা গেছে এসব শাখায় গত তিন দিনে গড়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধের ১০ থেকে ‌১৫টি আবেদন জমা হয়েছে।
সিলেট শহরের একটি শাখার অ্যাকাউন্ট ওপেনিং সেকশনের কর্মকতা জানান, মঙ্গলবার তাদের শাখায় ১৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর আগেরদিন এই সংখ্যা ছিল ৭টি।
হবিগঞ্জ জেলা সদর শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন তাদের শাখায় মঙ্গলবার চারজন গ্রাহক অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেছেন।
ঢাকায়ও এমন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে অনেককে গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অক্যাউন্ট ইসলাম ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেয়া ঘোষণা দিচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানাচ্ছেন।
পেশায় চিকিৎসক একজন গ্রাহক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, আমার টাকা লুটেরা কোনো কর্তৃপক্ষের হাতে ফেলে রাখাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছি। তাই সরিয়ে নিলাম আমার একাউন্ট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যানেজম্যান্টে পরিবর্তনের পর সাধারণত তিন ধরনের গ্রাহক ইসলামী ব্যাংক থেকে অ্যাকাউন্ট তুলে নিচ্ছেন।
প্রথমত, জামায়াত সংশ্লিষ্ট লোকজন। তারা ক্ষোভ থেকেই অ্যাকাউন্ট সরাচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত, ধার্মিক সাধারণ মানুষ। তারা মূলত ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য এই ব্যাংকটিকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে এর ম্যানেজম্যান্টে আসা লোকজন সারা জীবন সুদী ব্যাংক পরিচালনা করে এসেছেন। এখন তাদের হাতে ইসলামী ব্যাংকিং কতটা সঠিকভাবে হবে তা নিয়ে এসব গ্রাহকদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
তৃতীয়ত, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক আওয়ামী লীগের ঘনিষ্টজনের লুটপাটের সাম্প্রতিক ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আগে থেকেই সরকারের লোকজনের মধ্য দখলদারী কথাবার্তা চালু ছিল। এখন সরকারের কব্জায় চলে যাওয়ার পর ব্যাংকটিতে লুটপাট হওয়ার সমুহ আশংকা রয়েছে। এই আশংকা অনেককে অ্যাকাউন্ট উঠিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

পরীক্ষা ছাড়াই গণহারে নিয়োগ দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন শাখায় পোস্টিংও দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বৃহত্ শিল্প গোষ্ঠীর তালিকা অনুযায়ী আরো ২৫০জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টো। একইভাবে রাজনৈতিক কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হবে না বললেও তাদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে এখনো আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। অন্যদিকে আকস্মিক পরিবর্তনের পরে অস্বাভাবিক দ্রুততায় ব্যাংকটির নতুন এমডির নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রবিবার ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলেন, এ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার কারণেই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ নিয়োগ পেত। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইবিএ’র মতো প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। অথচ নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া শুরু করে দিয়েছে ব্যাংকটি। বিভিন্ন শাখায় নিয়োগপ্রাপ্তদের পোস্টিংও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মধ্যে রমনা, হেড অফিস কমপ্লেক্স ভবন ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় একজন করে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। গ্রেড টু ও অফিসার হিসাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক কর্মকর্তাকে দুই ধাপ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যিনি ওই বিশেষ ব্যবসায়ী গ্রুপের ফাইলপত্র দেখতেন বলেও নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।

ব্যাংকটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, একমাস আগে বোর্ডসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবটি ছিল এরকম, নতুন লোকবলের প্রয়োজনে ছোট-খাট পোস্টে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে পারবেন। এজন্য বোর্ডের অনুমতি বা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, অবশ্য ওই সভায় ১০ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শীর্ষপদে সহসাই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। আর এ পরিবর্তনের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কাউকে রাজনৈতিক কারণে ছাঁটাই করা হবে না। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা গাড়িতে বোমা বা প্রেট্রোল মারতে গেলে পুলিশের কাছে ধরা পড়লে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও জানান তারা। তবে এ আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
গত বৃহস্পতিবার পরিবর্তনের পর চেয়ারম্যানসহ এমডি ও ডিএমডি পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে নতুন দায়িত্বে আসা ব্যক্তিদের নিয়োগের অনুমোদন অতি দ্রুততার সঙ্গে করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন একজন এমডি ও চারজন ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিয়োগ অনুমোদন করে রবিবারই আবার চিঠি পাঠান হয় ইসলামী ব্যাংকে। গতকাল নতুন এমডি যোগদান করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় পদত্যাগপত্র পাঠান ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আব্দুল হামিদ মিঞাকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করে পর্ষদ। এছাড়া চার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টকে (ইভিপি) পদোন্নতি দিয়ে ডিএমডি নিয়োগ করা হয়। নতুন চার ডিএমডি হলেন ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, কর্পোরেট ডিভিশন-১ প্রধান মোহন মিয়া, কর্পোরেট ডিভিশন-২ এর প্রধান মনিরুল মওলা ও মোহাম্মদ আলী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ইসলামী ব্যাংকে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। বিধি মোতাবেক পরিবর্তনের বিষয়টি জানানর বিষয় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তারা তা জানিয়েছে। যিনি নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি আগেও একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর এমডি পরিবর্তনের বিষয়ে তারা আমাদের কাছে অনুমোদন চেয়েছে। আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ডিএমডি নিয়োগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জনস্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধে ইসলামী এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর ও বিতর্কিতরা যেন ব্যাংকে নিয়োগ না পান এই জন্য যোগ্য লোককে নিয়োগ দিতে এই বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। নিয়মানুযায়ী এমডি ও ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয় ইসলামী ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার বোর্ডে পদত্যাগপত্র পাঠান। বোর্ড তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন এমডি নিয়োগ করেন। এদিকে নতুন এমডি আবদুল হামিদ মিঞাকে অবশ্যই ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তার ক্ষেত্রে এক মাসের নোটিস দেওয়ার বিধিবিধান প্রযোজ্য।
এ বিষয়ে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের এমডি শারীরিক অক্ষমতার কথা বলে পদত্যাগ করেছেন। তিনি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো অভিযোগ করেন তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব। নিয়মকানুন মেনেই সবকিছু হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় হলে সে বিষয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উৎসঃ ইত্তেফাক

ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টেও আসছে পরিবর্তন: চাকরি গেল শীর্ষ ২ কর্মকর্তার

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের পর এবার পরিবর্তন আসছে ম্যানেজমেন্টেও। সোমবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে যোগ দিয়েছেন মো. আবদুল হামিদ মিঞা। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাকে এই ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির শীর্ষ ২ কর্মকর্তা—এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) এন আই খান ও কবির হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য রবিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরাস্তু খান বলেছিলেন ‘সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়া কারও চাকরি যাবে না।’ কিন্তু তার এই ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই ওই দু’জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে রবিবার রাতেই এই দু’জন কর্মকর্তাকে ব্যাংকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চাকরি করতেন এন আই খান ও কবির হোসেন। বৃহস্পতিবার ব্যাংকে নতুন নেতৃত্ব আসার পর ওই দু’জনের নিয়োগের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। এ কারণে রবিবার রাত ৮ টার দিকে তাদের ব্যাংকে না আসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ওই ২ কর্মকর্তা ছাড়াও একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও (ডিএমডি) সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর বাইরে মধ্যম সারির আরও কয়েক ডজন কর্মকর্তা রয়েছেন পর্যবেক্ষণে।

এদিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে ব্যাংকটি। সোমবার পর্যন্ত ১৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন শাখায় পোস্টিংও দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর তালিকা অনুযায়ী আরও ২৫০জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকার রমনা, হেড অফিস কমপ্লেক্স ভবন ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় একজন করে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। অফিসার হিসেবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক কর্মকর্তাকে দুই ধাপ ওপরে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যিনি একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গ্রুপের ফাইলপত্র দেখতেন।

নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ব্যাংকটির একজন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘একমাস আগে বোর্ডসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—নতুন লোকবলের প্রয়োজনে ছোটখাটো পোস্টে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে পারবেন। এজন্য বোর্ডের অনুমতি বা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওই সভায় ১০ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’

এর আগে বৃহস্পতিবার অপসারিত হন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার। এরও আগে ব্যাংকটির পর্ষদে থাকা জামায়াত নেতাদের সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসীদের। মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটিতে ১৬ জন নতুন পরিচালক যোগ দেন।

এই পরিবর্তনের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, কাউকে রাজনৈতিক কারণে ছাঁটাই করা হবে না। এদিকে ইসলামী ব্যাংকের এই পরিবর্তনে পর নতুন দায়িত্বে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন একজন এমডি ও চারজন ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিয়োগ অনুমোদন করে রবিবারই আবার চিঠি পাঠানো হয় ইসলামী ব্যাংকে। চার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টকে (ইভিপি) পদোন্নতি দিয়ে ডিএমডি নিয়োগ করা হয়। নতুন চার ডিএমডি হলেন কোম্পানি সচিব আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, করপোরেট ডিভিশন-১ প্রধান মোহন মিয়া, করপোরেট ডিভিশন-২-এর প্রধান মনিরুল মওলা ও মোহাম্মদ আলী।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘এমডি পরিবর্তনের বিষয়ে তারা আমাদের কাছে অনুমোদন চেয়েছে আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।’

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জাহিদুল কুদ্দুস মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিন ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার যেকোনও গ্রুপ কিনতে পারবে। নিয়মে কোনও বাধা নেই। আবার সেই গ্রুপের পছন্দের লোকদের বসাবে এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে ইসলামী ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার মেয়াদ না বাড়ানো কোনও দোষের কিছু নয়। আবার নতুন লোকজন নিয়োগ দেওয়াও কোনও দোষের কিছু নেই।’-বাংলা ট্রিবিউন

ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে আতঙ্ক!

হঠাৎ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বড় পরিবর্তনে আতঙ্ক বিরাজ করছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। চাকরি নিয়ে শঙ্কিত ব্যাংকটির সব পর্যায়ের কর্মীরা।
সূত্র বলছে, ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া জামায়াত ও শিবিরের মতাদর্শের কর্মকর্তাই বেশি। ফলে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে বেশি। বাকিরাও আতঙ্কে আছেন ঘটনার প্রেক্ষাপটে।

ব্যাংকের নতুন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, গণহারে কর্মী ছাঁটাই করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হবে না। তাছাড়া ব্যাংকটি দৈনন্দিন কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক কোনো ঝুঁকি তৈরি হতে দেয়া যাবে না।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জামায়ত-শিবিরের মতাদর্শের কর্মীদের অনেকেই চাকরি খুঁজছেন। চাকরিচ্যুত হওয়ার আগেই তারা সরে পড়তে চান।
সোমবার সকালে কথা হয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ তিন কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা বলছেন, রীতিমতো ভয়ে আছেন তারা। নতুন পর্ষদ যদি গণ ব্যবস্থায় যেতে চায়, তবে তাদের পক্ষে চাকরি করা সম্ভব হবে না।
ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আরাস্ত খান টেলিফোনে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ব্যাংকটি একটি গোষ্ঠীর বলে পরিচিত। এ অবস্থা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে আমরা গণহারে কোনো ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত করব না। কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “ব্যাংকটির কর্মীদের বড়ই অংশই জামায়ত-শিবিরের মতাদর্শী। নতুন পর্ষদ হয়তো শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করবে। জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে হয়তো চাকরিচ্যুত করা হবে। আর নিচের দিকে হয়তো কঠোর কোনো বার্তা দিয়ে দেয়া হবে।”
জানা গেছে, সোমবার নতুন এমডি হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. আবদুল হামিদ মিঞা। গত ৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সভায় মনোনয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার এ নিয়োগ অনুমোদন করে।
মো. আবদুল হামিদ মিঞা এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও শিল্প ব্যাংক (বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক)- এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হঠাৎ করেই ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), নির্বাহী ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিনিধি হিসেবে এতদিন ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের সাবেক সচিব আরাস্ত খানকে।
নতুন পরিচালক হিসেবে গতকাল পর্ষদ সভায় যোগ দিয়েই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরাস্ত খান। আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে আরাস্ত খান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মনোনীত হন।
যদিও রোববার সংবাদ সম্মেলনে আরমাডা স্পিনিং মিল কাদের তা জানাতে পারেননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত তিনি পরে জানাবেন।
বড় ধরনের এ পরিবর্তন এলেও পরিচালনা পর্ষদের আকারে বড় পরিবর্তন আসেনি। পুনর্গঠনের পর ১৮ জনের পর্ষদ নেমে এসেছে ১৭ জনে। এর মধ্যে ৭ জনই স্বতন্ত্র পরিচালক। তারাই মূলত ব্যাংকটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখছেন।
ব্যাংকটির বিদেশি শেয়ারধারীদের মধ্যে পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আল-রাজি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সরকারি মালিকানাধীন দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রতিনিধি। এ ছাড়া সম্প্রতি এবিসি ভেঞ্চার, গ্র্যান্ড বিজনেস লিমিটেড, এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, প্লাটিনাম এনডেভরস, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ও ব্লু ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন।
স্বতন্ত্র পরিচালকেরা হলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেলাল আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি জিল্লুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আবদুল মাবুদ, আইনজীবী বোরহান উদ্দিন আহমেদ ও বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিক ও নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
এর আগে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত এমন পরিচালক ও কর্মকর্তাদের ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিতে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আল-রাজি সম্মতি দেন।
ইসলামী ব্যাংকের বিদেশি উদ্যোক্তারা হলেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কুয়েত ফিন্যান্স হাউস, ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড করপোরেশন দোহা, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং লুক্সেমবার্গ, শেখ আহমেদ সালেহ জামজুম, শেখ ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল-খতিব, দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি কুয়েত, মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস কুয়েত।
দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে দেশে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শতাংশের বেশি মালিকানা ছিল ইসলামী ব্যাংকে। তবে দুই বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে তাদের মালিকানা ছেড়ে দেয়ায় উদ্যোক্তা অংশের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ও এক নম্বর ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। প্রায় প্রতিবছরই দেশের সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে ব্যাংকটি।