Category Archives: এক্সক্লুসিভ

প্রবাসীদের জন্য সৌদি বাদশার দারুন সুযোগ!

সৌদিতে যে সকল অবৈধ বাংলাদেশী, আছেন তাদের জন্যে সৌদি সরকার দেশে ফেরত যাবার অথবা লঘু জরিমানা অথবা সাধারন ক্ষমা দিয়ে সৌদি আরবেই কাজ করার সুযোগ দেবেন বলে ঘোষনা দিয়েছে। আগে এ সুযোগ ছিল ৩ টি ধাপে। কিন্তু ১৫.০১.২০১৫ থেকে তা দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে। যা ১৭.০৪.২০১৭ পর্যন্ত চলবে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ তাদের জন্যও সুযোগ আছে, সেই সুযোগ হল – আপনারা যদি ধরা দেন নিজ থেকে তাহলে দেশে নাও পাঠাতে পারে। এমনও হতে পারেজেল/জরিমানা দিয়ে সে দেশেই আবার কাজের সুযোগ দেয়া হবে।
এর মানে হল অপরাধের জন্য যে জরিমানা অথবা জেল দিতে হত তা আর দিতে হবেনা। কিন্তু আকামার ফী অথবা অন্য সরকারি কোন ফী যদি বকেয়া থাকে তা দিতে হবেনা।
এখানে কিছু পন্থার কথা বলা হয়েছে।যা সকল অবৈধ প্রবাসীদের অবলম্বন করতে হবে।
১/ যারা অবৈধ আছে তাদেরকে জাওয়াদাত অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ধরা দিয়ে নিজের অপরাধের কথা শিকার করতে হবে এবং বিমানের টিকিট কিনে টিকিটের ভেরিফাইট কপি জাওয়াদাত অথবা মকতবে আমেলকে দিতে হবে যাতে প্রমাণ হয় যে আপনি সত্যিই টিকিট কিনেছেন।
২/ আপনার কাছে আকামা/পাসপোর্ট অথবা যে সকল কাগজপত্র আছে তা দাখিল করতে হবে।
৩/ সরকারী কোন ফী, যেমন আকামার উপর গ্রামা অথবা অন্য কোন কারণে আপনাকে গ্রামা করা হয় তাইলে তা আপনাকে পরিশোধ করতে হবে।
৪/ মকতবে আমেল ও জাওয়াদাত অফিস থেকে ভেরিফাইড করা কপিগুলো সংরহ করতে হবে এবং কফিলের আপনার উপর কোন দাবি-দাওয়া নেই তা প্রমাণ দিতে হবে।
৫/ আপনার মাওমালাতটি যাবে এমন একটি আদালতে, যাদের গঠন করা হয়েছে শুধুমাত্র অবৈধ প্রবাসীদের দেশে পাঠানোর জন্য।
৬/ এই আদালত থেকে সকল ভেরিফাইড কাগজপত্র ও মাওমালাত সংগ্রহ করতে হবে।
৭/ কফিলকে জানানো হবে যে আপনি নিজ দায়িত্বে ধরা দিয়েছেন এবং আপনার সাথে যদি কফিলের কোন মাওমালাত থাকে তাইলে তা নিজেদের মধ্যে সেরে ফেলতে হবে
৮/ আপনার কফিল যদি আপনার উপর জুলুম করে থাকে তাইলে কফিলের আফসীর সিস্টেম বন্ধ করে দেয়া হবে।
এত কথা না বলে এটা বলে দিলেই তো হয় যে, সকল গ্রামা এবং সরকারী ফী পরিশোধ করে, বিমানের টিকিট করে আপনি চলে যেতে পারেন। কোনরকম জেল/জরিমানা ছাড়াই তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
কোনরকম ব্ল্যাকলিষ্ট করবেনা। যদি ধরা দিয়ে দেশে চলে যেতে চান তাইলে যে ক্ষমাটা করা হয়েছে তার মানে হল আপনি চাইলে আবার নতুন ভিসা নিয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

ভারতীয় পত্রিকার চাঞ্চল্যকর তথ্য >> ‘জঙ্গি’ মারজান বাংলাদেশের গোয়েন্দা হেফাজতেই ছিল

ভারতীয় পত্রিকা দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গিনেতা মারজান আগে থেকেই গোয়েন্দা হেফাজতে ছিল।

দ্য ওয়্যার এর “Due Process and Bangladesh’s Counter-Terrorism Measures” শিরোনামের রিপোর্টে প্রত্যক্ষদর্শী গোয়েন্দা কর্মকতা এবং একাধিক বাংলাদেশী সাংবাদিকের বরাতে এই তথ্য দেয়া হয়।

প্রখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের লেখা রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, নুরুল ইসলাম মারজান গত সাত মাস ধরে তার বাসা থেকে নিঁখোজ ছিলেন। গত ১২ আগস্ট পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, মারজান গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। তখন তিনি বলেছিলেন, সে গোয়েন্দাজালে রয়েছে। শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।

কিন্তু সুইডেন ভিত্তিক সাংবাদিক, যিনি বাংলাদেশর জঙ্গিবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞও, জানিয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগের একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা এবং পুলিশের মধ্যমসারির এক কর্মকর্তার কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন যে, মারজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে গোয়েন্দাদের হেফাজতে রয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় ডিবি অফিসের আরেকজন ব্যক্তিও একই তথ্য দিয়ে বলেছেন, তিনি মারজানকে ডিবি অফিসের একটি ভবনে দেখেছেন। তখন সে হাতকড়া পরাবস্থায় মেজেতে পড়েছিল। দেখে মনে হচ্ছিল তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তি জানান, পত্রিকায় মারজানের ছাপা হওয়া ছবি দেখে তিনি তাকে চিনতে পারেন।

সূত্র: দ্য ওয়্যার। লিংক: https://thewire.in/71832/due-process-bangladeshs-counter-terrorism-measures

জনগণের টাকা নষ্ট করছে যেসব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান

জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অন্যতম। এই তিন প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের পাওনা এখন ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১১২টি স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সংস্থার কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছেই সরকারের পাওনা ৮০ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ পাওনা রয়েছে ৩৬ হাজার ৫৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ২২ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কাছে সরকারের পাওনা ১৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। একইভাবে বাকি ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবু আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন, তাদের দুর্নীতি দেশের সাধারণ মানুষদের ভোগাচ্ছে। এঅবস্থার মধ্যে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে তারা জনগণকে সেবা থেকে বঞ্চিত করছে, অন্যদিকে জনগণের পকেটের টাকা নিয়ে ছয়-নয় করা হচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনও লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছরে বিপিডিবি একাই লোকসান করেছে ৪০ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)ও। দীর্ঘদিন লোকসান দেওয়ার পর গত দুবছর ধরে মুনাফা করতে শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে বিপিসি একাই লোকসান দিয়েছে ১১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তার আগের বছর লোকসান দিয়েছে ৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। অবশ্য গত দুই অর্থবছরে ১৬ হাজার ৩১২ কোটি টাকা মুনাফা করলেও প্রতিষ্ঠানটি গত ২০ বছরে (১৯৯৬ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত) লোকসান দিয়েছে ৩৫ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। আর এইসব লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে সরকার প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করার জন্য স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা। যেসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসান করে যাচ্ছে, সেখানে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ আছে। তারাই দেখবে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে লাভজনক করা যায়।’

প্রসঙ্গত,বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুন্নয়নমূলক কাজে অর্থায়ন করে থাকে। জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুন্নয়নমূলক কাজের অর্থের উৎস হচ্ছে দুইটি- বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে থেকে প্রাপ্ত প্রকল্প সহায়তা। উভয় ক্ষেত্রেই সরকার চুক্তির মাধ্যমে ঋণ হিসোবে এই অর্থ ওই সংস্থাগুলোকে দিয়ে থাকে। ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চুক্তির শর্তানুসারে পরিশোধসূচি অনুযায়ী কিস্তিভিত্তিক সুদসহ অথবা সুদ ব্যতীত এ অর্থ সরকারকে ফেরত প্রদান করতে হয়। কিন্তু শর্ত পালন না করার কারণে এবং পাওনা পরিশোধ না করায় এই দায়ের পরিমাণ বছর-বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষতা আর দুর্নীতির কারণে এগুলো একদিকে লোকসান গুনছে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগারের অর্থ দিয়ে এসব লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারপ্রেস নেটওয়ার্ক-আইপিএন এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে ১০০ টাকা কর দিলে এর মধ্যে ৭ টাকা ৮০ পয়সা ব্যয় হবে ভর্তুকি ও প্রণোদনায়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। কারণ, তাদের দেওয়া করের টাকায় লোকসানি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে কেউ ১০০ টাকা কর দিলে তার থেকে ৭ টাকা ৮০ পয়সা ব্যয় হবে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে।’

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারি ১১ সংস্থাকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৮শ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সরকারের পাওনার পাশাপাশি ১৯টি রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এ বছর পাওনা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পাওনা ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া, চিনি শিল্প করপোরেশনের কাছে চার হাজার কোটি টাকা, বিপিসির কাছে পৌনে চার হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ব্যাংকগুলোর।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যে জানা যায়, পেট্রোবাংলার কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৯ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা , বিসিআইসির কাছে ৬ হাজার ৮৬২ কোটি , নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কাছে ৮ হাজার ৪০১ কোটি ও পিজিসিবির কাছে ৪ হাজার ২২২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এছাড়া, বিজেএমসির কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪ হাজার ১২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আশুগঞ্জ পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির কাছে পাওনা ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আইডিসিওএলের কাছে পাওনা ৪ হাজার ৯৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

সরকারের পাওনা রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে ৫ হাজার ৭০ কোটি ৪ লাখ, ঢাকা ওয়াসার কাছে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ ও খুলনা ওয়াসার কাছে ১ হাজার ৫৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডিপিডিসির (পুরাতন ডেসা) কাছে সরকারের পাওনা ৩ হাজার ৩৬৬ কোটি ৫৩ লাখ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি ৯৯ লাখ, বিআইডব্লিউটিএ-র কাছে ১ হাজার ৬৭০ কোটি ৮৭ লাখ, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির কাছে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়, পিকেএসএফের কাছে সরকারের পাওনা ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর বহুল আলোচিত গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে পাওনা রয়েছে ১৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ৪৫টি পৌরসভার কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে।-বাংলা ট্রিবিউন

নারীদের মনোজগতে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে ভারতীয় সিরিয়াল

টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় গত ২২ ডিসেম্বর ঘটে গেল মর্মান্তিক এক ঘটনা। এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে আরেক নারী। কারণ ভারতীয় সিরিয়াল। কোনো গল্প নয়, একেবারেই সত্যি ঘটনা। ভারতীয় সিরিয়াল দেখাকে কেন্দ্র করে ২২ বছরের সুমি আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে একই বাসার ভাড়াটিয়া রিনা বেগম। কলেজপাড়ার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল হক শামীমের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল থানার পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, ২২ ডিসেম্বর বিকালে কাউন্সিলর শামীমের বাসার ভাড়াটিয়া শাহাজাদির ঘরে টিভি দেখতে যায় পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া সুমি আক্তার ও রিনা বেগম।

এসময় দুজনের মধ্যে ভারতীয় সিরিয়াল দেখা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই একপর্যায়ে সুমিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন রিনা। পরে স্থানীয়রা আহত সুমিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রিনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

আধুনিক এই যুগে টেলিভিশন আছে প্রায় প্রতিটা ঘরেই। আর এই টেলিভিশনে স্যাটেলাইট সংযুক্ত থাকায় পুরো বিশ্বই এক বাক্সে বন্দি বলা চলে। এখন মানুষ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চ্যানেল দেখার সুযোগ পাচ্ছে। আর এর মধ্যে কোনো কোনো দেশের কিছু অনুষ্ঠান এমন আসক্তি তৈরি করেছে দশর্কদের মনে, যা তাদের প্রাত্যহিক জীবনের ওপরও নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। আর এ প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রভাবে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালগুলো (ডেইলি সোপ)। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা ঘরেই (যেকোন সামাজিক অবস্থান হোক না কেন) বাড়ছে ভারতীয় সিরিয়াল দেখার আসক্তি। বিশেষ করে এ নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন নারীরা। আর তাদের সাথে থাকা শিশুরাও অনেকক্ষেত্রে এসব সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে উঠছে। স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, জি টিভি, সনি- এসব চ্যানেল যেন এখন রমনীদের কাছে নিত্যদিনের কাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রান্না কিংবা খাওয়া হোক বা না হোক, এসব চ্যানেলে অনুষ্ঠিত নাটক তাদের দেখা চাই-ই চাই।

এই নাটকগুলোর প্রভাব এমন পড়ে যে, আশপাশে একটু তাকালেই তা ¯পষ্ট হয়ে যায়। ঈদ, নববর্ষ কিংবা যেকোন উৎসবকে সামনে রেখে চলে এসব সিরিয়ালের নায়িকা কিংবা আকর্ষণীয় কোন নারীর নাম অনুসারে পোশাক বিক্রির হিড়িক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নজর দিলেই বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়ে উঠবে সবার সামনে। ভারতীয় এক সিরিয়ালের নায়িকা পাখির নামকরণে পাখি থ্রি-পিস কিনে না দেওয়াতে আত্মহত্যা করেছে

বাংলাদেশের কিশোরী। এই পোশাক কিনে না দেয়ায় স্বামীকে তালাক দেয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রভাব ছেলেদের মধ্যেও কম নয়। সম্প্রতি ছেলেকে পড়তে বসিয়ে বাবা মা সিরিয়াল দেখতে বসে। এ অবস্থায় তাদের ৭ বছরের ছেলে সিরিয়াল দেখার সুযোগ না পেয়ে, করেছে আত্মহত্যা। তারপরও দিব্যি চলছে এসব চ্যানেল।

শুধু এমনটাই নয়, আরো অনেকভাবে এই সিরিয়ালগুলো অপরাধের পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে। প্রতিটা সিরিয়ালেরই বিষয়বস্তু পরকীয়া, স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস, নারী-পুরুষের অবাধ মিলন, তুচ্ছ কারণে খুন, নির্যাতন, পরচর্চা ইত্যাদি। আর এসব দেখে দেখে আমাদের নারী ও পুরুষরাও অনুকরণ করছে। একটা সংসার কিভাবে নষ্ট করা যায় তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব উপায়ই এই সব সিরিয়ালে দেয়া আছে। আর অনেক নারী-পুরুষ সেগুলো গোগ্রাসে গিলছে। অনেকে বলছেন, আমাদের মিডিয়া ভালো কিছু দিতে পারছে না বলে এইসব ভারতীয় সিরিয়ালের আসক্তি কাটছে না। কিন্তু মনে রাখা জরুরি যেকোনো মন্দ জিনিসেই আসক্তি বা নেশা হয়। ভালো বিষয়ে হয় না।

এদিকে, ভারতীয় এসব চ্যানেলের কারণে আজ হুমকির মুখে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলো। ভারতীয় চ্যানেলের ভীড়ে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলো এখন নিজেদের হারিয়ে খোঁজার উপক্রম। সেই সাথে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি আজ হুমকির মুখে। বাঙালির অনেক উৎসবে নারীকে এখন আর দেখা যায় না চিরচেনা বাঙালির রূপে। না পোশাকে, না সাজ-সজ্জায়। সবাই ভারতীয় অমুক সিরিয়ালের কায়দায় সাজবে, তাদের এই অনুষ্ঠান বা ওই অনুষ্ঠানের অনুকরণে আনুষ্ঠানিকতাও করবে। এমনকি এখন বিয়ের আয়োজনেও বর-কনের আগ্রহে কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের আগ্রহে বিয়ের সাজ-সজ্জা থেকে শুরু করে সেট ডিজাইনও হয় ভারতীয় সংস্কৃতির আদলে। বিয়ের রীতিতেও আধুনিকতার নামে ঢুকে যাচ্ছে ভারতীয় রীতি।

এসব চ্যানেলের চাকচিক্য, খোলামেলা আর আভিজাত্যের দর্শনে বাঙালির মাঝে একধরনের বিলাসিতার বাসনা সৃষ্টি করেছে। দামী পোশাক সাধারণ পরিবারগুলো কিনতে না পারার কারণে তৈরি হচ্ছে অসহিষ্ণুতা আর ঘটছে নিত্য নতুন অপরাধ। আর সব মিলিয়ে বতর্মানের অস্থিরতার জন্যও দায়ী এসব সিরিয়াল। শুধু সংসার আর অপরাধের মধ্যেই এখন আর সীমাবদ্ধ নেই এসব সিরিয়াল । বাচ্চাদের পড়ার বইয়েও রয়েছে এসব সিরিয়ালের কাহিনী। লেখার খাতার উপরেও রয়েছে এসব সিরিয়ালের নায়ক বা নায়িকাদের ছবি। পেন্সিলেও থাকে ভারতীয় সব কার্টুন ছবির স্টিকার।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যেহেতু বাংলাদেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত অনেক নারীই এখন মন্ত্রমুগ্ধের মতো টিভি সেটের সামনে রিমোট হাতে বসে ভারতীয় হিন্দী, বাংলা সিরিয়াল দেখতে থাকেন, তাই একই বিষয় বারবার দেখতে দেখতে তাদের মনোজগতে বিষয়গুলো এমনভাবে গেঁথে যায় যে, তারা নিজেদের অজান্তেই অর্থাৎ নারীদের অবচেতন মনেই বিষয়গুলো নিজ দায়িত্বে জায়গা করে নেয়। এবং তারা এগুলোকে যাপিত জীবনে ব্যবহার করে (যদিও খুব একটা সচেতন জায়গা থেকে নয়)।

সংস্কৃতিসেবীরা এই বিষয়টিকে দেখছেন মহামারী আকারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এতই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, কোন প্রতিষেধকই এখন আর কাজ করছে না। অভিজাত শ্রেণী থেকে শুরু করে একেবারেই পতিত শ্রেণী, উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবার, বয়স্ক থেকে শিশু পর্যন্ত সবাই এই মহাব্যাধিতে নিমজ্জিত। আমাদের বাচ্চারা এখন মায়ের ভাষা বাংলা শিখার আগেই হিন্দিতে কথা বলা রপ্ত করে ফেলছে। আর এটি হচ্ছে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর কারণে।

এখনকার নারীদের আড্ডা কিংবা বৈঠকের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে অমুক চ্যানেলে অমুক সিরিয়ালের আলাপন। স্টার প্লাস, স্টার জলসা, জি বাংলাসহ একাধিক চ্যানেল রয়েছে, যেগুলোর মোহে মজেছে আমাদের দেশের নারী সমাজ।

ভারতীয় সিরিয়ালের বেশির ভাগ অংশজুড়ে থাকে বৌ-শাশুড়ি, কিংবা ননদ-ভাবি অথবা জা-জায়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, চুলোচুলি আর প্যাঁচ লাগিয়ে একে অপরের ঘর ভাঙ্গা কিংবা পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যেটি, সেটি হল এসব সিরিয়ালে, দৃষ্টিকটু বেশ-ভূষা, পরকীয়া আর অবৈধ স¤পর্কগুলো থাকে অতি সাধারণ বিষয়। আর এসব দেখে তারাও ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিপরীত ধারায়।

বিশ্বায়নের এই যুগে নিজেকে গুটিয়ে রাখার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি অন্যদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ারও সুযোগ নেই। তাই নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে ভালবেসে, অন্যের ভালটা নিয়ে যদি আমরা সমৃদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করি তাহলে হয়তো ভারতীয় সিরিয়ালগুলোকে আর দোষারোপ করতে হবে না। তাই নারীদের যার যার অবস্থান থেকে দীঘর্মেয়াদী ক্ষতিকর মানসিকতার ভারতীয় নাটক পরিহার করে দেশীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

যেভাবে পাবেন স্মার্টকার্ড

দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড দেওয়া শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যেই অনেকে নিজেদের কার্ড বুঝে পেয়েছেন। তবে সবার হাতে এখনো পৌঁছায়নি স্মার্টকার্ড। কিন্তু যারা এখনও পাননি তারা নিজেই জেনে নিতে পারেন কখন হাতে পাবেন আপনার কার্ডটি। ১০৫ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন এ তথ্য।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের https://services.nidw.gov.bd/voter_center লিংকে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ অথবা ফরম নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণের তারিখ জানা যাবে। তবে যাদের স্মার্টকার্ড বিতরণের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি তাদেরকে পরবর্তীতে আবার অনুসন্ধান করার কথা বলা হবে।

এসএমএসের মাধ্যমেও বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম জানা যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে জানতে SC লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। আর যাদের এনআইডি ১৩ ডিজিটের তাদের এনআইডির নম্বরের প্রথমে জন্ম সাল যোগ করতে হবে।

এখনও যারা এনআইডি পাননি তারা SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে D লিখে স্পেস দিয়ে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি অর্কসহ তিনজনের আইএস স্টাইলে ধারণ করা অডিওবার্তা

রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ির’ জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর নানা ‘জিহাদি’ আলামতসহ কিছু অডিওক্লিপও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি অডিও ক্লিপের কপি গোয়েন্দাদের মাধ্যমে বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। ওই তিনটি অডিওক্লিপের একটি হলো নিহত জঙ্গি সেহজাদ রউফ অর্ক’র। আর দুটি ক্লিপ আবু রেহান এবং তাজুল হক নামে দু’জনের।

এই সব অডিওতে কথিত জিহাদের ঘোষণা দিয়ে তারা তাদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষকে জিহাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাদের বাধা দিতে র‍্যাব পুলিশসহ যারাই আসবে, তাদের হত্যা করা হবে।

সেহজাদ রউফ অর্ক এবং তাজুল হক ইংরেজিতে বার্তা দিয়েছেন। আর আবু রেহান বাংলায়। ২৬ জুলাই ভোরে অভিযানের আগে যেকানও সময় এসব অডিও তারা ধারণ করেছেন। কল্যাণপুরের অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে সেহজাদ রউফ অর্ক থাকলেও বাকি দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, সেখানে নিহত নয়জন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গির নিয়মিত আনাগোনা ছিল।

ডিএমপি’র এডিশনাল কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,‘ এধরনের অডিওবার্তার ব্যাপারে আমরাও নিশ্চিত হয়েছি। তবে এগুলো তারা অভিযানের আগে ইন্টারনেটসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তা নিয়ে তদন্ত করছি। চেষ্টা করছি সংগ্রহ করার।’

তাদের অডিও’র বক্তব্য কিছু সম্পাদনা করে তুলে ধরা হলো-

সেহজাদ রউফ অর্ক

‘আমি সেহজাদ রউফ অর্ক। আমার পরিবারের প্রতি বার্তা। আমার পরিবারের সদস্য তাওহিদ রউফ এবং অন্যান্যরা যারা শেখ হাসিনাসহ তাগুদের সমর্থক।

আমাদের শরিয়া আইন সমর্থন করতে হবে যাতে আমরা বেহেশতে যেতে পারি। আর এটাই বেহেশতে যাওয়ার একমাত্র পথ। আমাদের সবকিছু এর জন্যই করতে হবে। আর এজন্য আমাদের জিহাদ করতে হবে। আমরা হত্যা করবো অথবা হত্যার শিকার হবো। আর এটা করতে পারলেই তবে বেহেশত আমাদের জন্য। আমরা গণতন্ত্র সমর্থন করতে পারিনা। শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতে পারি না। আমার পরিবারের সদস্য এবং যারা এটা সমর্থন করে তারা মুরতাদ।

আমরা সংখ্যায় অল্প। কিন্তু আমাদের বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর জয়ী হতে হবে। আমরা জয়ী হবো।

আমরা ঘোষণা করছি, পুলিশ র‍্যাবের যেই আমাদের প্রতিরোধ করতে আসুক, তাদের আমরা হত্যা করবো। আমরা বেহেশতে যাবো।’

আবু রেহান
‘আমি আবু রেহান। আমি আমার ভাইদের বলতে চাই, আপনারা খেলাফতকে সমর্থন করুন। খেলাফাতের জন্য জানমাল কোরবান করুন। এই খেলাফত পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে।

আর আমি খালিফা আল বাগদাদিকে বলতে চাই, আপনি সেই সব কুফরদের চোখ গুলোকে উপড়ে ফেলবেন, যেগুলো দিয়ে তারা মুমিনদের দিকে তাকিয়েছে।

আর আমার বাবা-মার প্রতি আমার বার্তা এই যে, আপনারা দ্বীনের পথে ফিরে আসুন। নিশ্চয়ই এটাই হবে, আমাদের বড় চাওয়া। আমাদের যদি দুনিয়ার পরিমাণ সম্পদ দেওয়া হয়, তার পরিবর্তে আপনাদের হেদায়েতকেই আমরা পছন্দ করবো।’

তাজুল হক
‘কুফর, মুরতাদ, মুনাফেক সবাই খেলাফতের বিরুদ্ধে এক হচ্ছে। তোমরা কেন লক্ষ করো না কুফর ধ্বংস হচ্ছে। খেলাফত বিস্তৃত হচ্ছে। সবাইকে খেলাফতের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

কুফরদের প্রতি আমার বার্তা, এটা সবে মাত্র শুরু। আমরা সারা পৃথিবী দখল করবো। অপেক্ষা করো, আমরা আসছি তোমাদের জনপদে। যুদ্ধ শুরু হবে। যুদ্ধ বিস্তৃত হবে। লোন উলফ (জঙ্গিদের এক ধরনের হামলাকারী গ্রুপ)-এর সংখ্যা বাড়ছে। তাই বলছি, এটা সবে শুরু। এটা তাজুল হক-এর পক্ষ থেকে বার্তা।’-বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লসিভ ভিডিও >> কল্যাণপুরে কথিত ‘জঙ্গি হামলা’ চাঞ্চল্যর খবর ফাঁস করলেন সাংবাদিক মহিম মিজান

গতপরশু রাতে ৭১ জার্নালে একাত্তর টিভির সাংবাদিক মহিম মিজান এসেছিলেন, যিনি আবার কল্যাণপুরে জঙ্গি হামলা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। একাত্তরে জার্নালে মহিম মিজান অনেকগুলো প্রশ্ন তুলেছেন।

যেমন, বাহিরে কোথাও গুলির দাগ নেই, পুলিশকে গ্রেনেড ছুড়লে পুলিশ আহত না হলে ও বিল্ডিংয়ের ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল ইত্যাদি।

যা শুনে বুঝা যায় এই বাড়িতে জঙ্গিগুলোকে পুলিশ নিজেই এনে খুন করেছে। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী একাত্তর টিভিতে ফোনে বলেছিলেন, জঙ্গিরা আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়েছেন কিনা তিনি শুনেননি।

এই জাহাজ বিল্ডিং বাড়িটিতে তেমন কোনো জানালাও নেই। কেউ জোরে আওয়াজ করলে ও বাহিরে থেকে শুনা যায়না। তাহলে জঙ্গিরা আল্লাহু একবার বলে স্লোগান দিয়েছে, তা কিভাবে শুনেছে পুলিশ বা কিছু সাংবাদিক ?

আরেকটি কথা, জঙ্গি অভিযানের সময় পুলিশের সাথে অনেকগুলো ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ কর্মী ছিল..তারাই কি আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেছিলো ?

ভারতের যা যা প্রয়োজন বাংলাদেশ তা দিয়েছে, কিন্তু ভারত সে তুলনায় দেয়নি

দিল্লিতে আজ বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের যেকোন সময়ের চেয়ে তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের তৎপর বিচ্ছিন্নবাদী দলগুলোর বাংলাদেশে অভ্যন্তরে যেসব ঘাঁটি ছিল সরকার সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। সেজন্য ভারত সরকার বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের কর্মকর্তারা প্রায়সই একান্তে স্বীকার করেন ভারতের কাছ থেকে তারা যা আশা করেন অনেক সময়ই সেটা তারা পান না। দু-দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নে ভারত কি আসলেই বাংলাদেশের জন্য আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারছে?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আস্থার বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন দিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষক কিশালয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমরা দেখছি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যখন কিছু একটা হয় ঠিক তার পরে হয়তো দুটো দেশ মিলে আলোচনা করে এবং কিছু তথ্য আদান-প্রদান হয়। কিন্তু তারপরে ফলোআপ কোন দেশই করে না।

২০০৯-১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের যতটা পাওয়া দরকার ছিল সেটা পায়নি। ২০১০ সাল থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ভারতের যা যা প্রয়োজন বাংলাদেশ সেখানে ভালভাবে সাড়া দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের যতটুকু ভূমিকা রাখা উচিত এবং সহযোগিতা করা উচিত, ভারত তা কতটুকু সিরিয়াসভাবে দেখে সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

বাংলাদেশে যেসব জঙ্গিদল রয়েছে তারা যাতে ভারতের কোন জঙ্গি দলের কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে ভারতেকে বলে আসছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা প্রায়ই বলেন তারা ভারতের কর্মকর্তাদের সাথে যখন বৈঠক করেন তখন একটা লিস্ট দেন যার মধ্যে শুধু জঙ্গিদের নাম থাকে না, সাধারণ অপরাধীদের নামও থাকে কিন্তু ভারত এইসব ব্যাপারে ভারতের তেমন কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না।

এই মানসিকতা কেন তৈরি হয়েছে সে প্রসঙ্গে কিশালয় ভট্টাচার্য বলেন, পদক্ষেপ না নেওয়ার দুটো কারণ রয়েছে। তার একটা হল ঐ তালিকাতে বেশিরভাগ ক্রিমিনালদের নাম, জঙ্গিদের নাম কম। যে ধরনের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হোক না বা ভারতের যতটুকু ভূমিকা রাখা দরকার সেটা তারা করছে না। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম এই চারটি রাজ্যের সাথে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত আছে। সেই চার হাজার কিলোমিটারে ৬০ টি চোরাচালানের পয়েন্ট আছে। সেই পয়েন্টগুলো দিয়ে শুধু গরু আর বন্দুক চালান হয় না আরও অনেক কিছু যায় সেখান দিয়ে। অন দ্যা গ্রাউন্ড যদি কো-অপারেশন না থাকে তাহলে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তার প্রশ্নে মূল চ্যালেঞ্জটা কোথায় হবে সে প্রসঙ্গে কিশালয় ভট্টাচার্য বলেন, দুই দেশের মধ্যে মূল চ্যালেঞ্জটা হবে মৌলবাদকে কিভাবে বিলুপ্ত করা যায়। আইএসের প্রভাব বাংলাদেশে বা ভারতে কতটা প্রভাব পড়েছে সেটা দেখতে হবে। বাংলাদেশ বার বার বলছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সাথে আইএসের কোন সংযোগ নেই এটা দেশীয় জঙ্গিরা ঘটাচ্ছে। কিন্তু বাইরের বিশেষজ্ঞরা বলছে, আইএসের প্রভাব বাংলাদেশে আছে। আইএস যতবেশি বাংলাদেশ এবং ভারতের কাছে চলে আসবে সেটা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ তত বেশি আলোচনা করতে হবে আইএসের প্রভাব কতটা আছে এবং কিভাবে আইএসের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

সেলফি মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত সমাজ

সেলফি জ্বরে আক্রান্ত গোটা দুনিয়া। আর এই সেলফি নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাও কম নয়। প্রায় রোজই জন্ম নিচ্ছে কোনো না কোনো ঘটনা। এমনকি সেলফি তুলতে গিয়ে মুত্যুও হচ্ছে। ভাই তার ছোট বোনকে কবরে রেখে তুলছে সেলফি, ছেলে তার জন্মদাতা বাবার লাশ কাঁধে নিয়েও ইদানিং তোলা হচ্ছে সেলফি। দাদার মৃত্যুর পর মন খারাপ হওয়ার পরিবর্তে একগাল হেসে লাশের সঙ্গে তোলা হচ্ছে সেলফি। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যে কত কি চোখে পড়ে!

কিছুদিন আগে এক ছেলে নিজের বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে কবরের দিকে যাচ্ছেন। সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়েছেন লাশ কাঁধে রেখেই। আর সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন- ‘আমি এবং আমার কাঁধে বাবার লাশ, কবরের দিকে যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন।’

নামাজ পড়া ও কবর জিয়ারত করার সময় সেলফি
গত রমজানেই দেখা গেল তারাবির নামাজে সেজদারত এক মেয়ের সেলফি। আপনিই ভাবুন কতটা সেলফি রোগে আক্রান্ত হলে বা অসুস্থ হলে এমন কাজ করা যায়!

কিছুদিন আগেই এক ছেলে তার মায়ের জন্য খোড়া কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে! হাসিমুখ। তার বন্ধুরা তখন কবর খুঁড়ছিলেন। তারাও তখন শোক ভুলে ক্যামেরার ফ্রেমে হাসি মুখে পোজ দিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সেলফি
হজ্ব করতে গিয়ে কাবা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে আপলোড দিয়েছেন এক ব্যক্তি। আর ক্যাপশনে লিখেছেন- ‘it’s imagine, I’m LOL’

নাতি তার দাদার লাশের সাথে নিচ্ছে সেলফি এবং ক্যাপশনে লিখছেন আমার দাদা এই মাত্র পরকালে চলে গেলেন! লাশের পাশে বসে কি সুন্দর করে হাসি মুখে সেলফি নিচ্ছেন!

মৃত বোনের কবর দেয়ার সময় তোলা সেলফি
সম্প্রতি ফেসবুকে এক ব্যক্তি ফেসবুকে তার মৃত বোনের কবর দেয়ার সময় তোলা সেলফি পোস্ট করে অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কবর দেয়া অবস্থা সবার সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে আবার দোয়া চেয়েছেন নিজের বোনের জন্য।

মৃত নানার সঙ্গে নাতিদের এবং ইন্দোনেশিয়ায় কবর জিয়ারত করতে গিয়ে সেলফি
গেল বছরের শেষদিকে মৃত ব্যক্তির সাথে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে তিন কিশোর। ছবিতে দেখা যায়, মৃত নানা শুয়ে আছেন হাসপাতালের ট্রলিতে, তাকে ঘিরেই তার তিন নাতি সেলফি তুলছেন। সেই ছবি তারা আপলোড করে ফেসবুকে। ছবির ক্যাপশনে তারা লিখেছে, ‘যাকে নিয়ে এত মজা করতাম, যাকে ঘিরে ছিল আমাদের হাসিখুশি, যার সাথে কথা না বলে থাকতাম না; সে হল আমার নানা। তিনি আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমরা তোমায় ভুলবো না। Miss u so much Nana bhai.’