Category Archives: আর্ন্তজাতিক

ট্রাম্প গুলিবিদ্ধ!

গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবাক করা এমন খবর মেলে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির একটি টুইটার একাউন্ট থেকে। যদিও পরে বলা হয় টুইটার একাউন্টটি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।

বিবিসি নর্দাম্পটন এর একাউন্ট থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে একটি টুইট করা হয়। ‘ব্রেকিং নিউজ—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাহুতে বন্দুকের গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।’ এর সাথে হ্যাশট্যাগ ছিল ‘উদ্বোধন’। যদিও কিছুক্ষণপরই বার্তাটি মুছে দেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই এটি রি-টুইট হয়ে যায়। পরে বিবিসি জানায়, একাউন্টটি আসলে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।

বিবিসির একজন মুখপাত্র জানান, ‘এটা যাতে আর না হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা তদন্ত করে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

অন্যদিকে আওয়ারমাইন নামে আমেরিকান হ্যাকিং গ্রুপ তাদের টুইটে জানায়, তারা বিবিসির একাউন্টে কিছু অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখতে পেয়েছে। এটা হ্যাক হয়েছে এবং তারাই (আওয়ারমাইন) এটা সারানোর চেষ্টা করছে।

এরপর বিবিসি আওয়ারমাইনের কাছে জানতে চায়, তারাই এই হ্যাকিং করেছে কিনা। জবাবে গ্রুপটি জানায়, তারা প্রথমে হ্যাক করেনি, কিন্তু বিবিসির একাউন্টটি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় , তা আসলেই হ্যাক হয়েছে কিনা জানতে নিজেরা হ্যাক করে ওই একাউন্টে ঢুকেছিল। পরে ভেতরে ঢুকে বুঝতে পারি যে একাউন্টটা সত্যি হ্যাক হয়েছে। আওয়ারমাইন বলেছে, আমরা একটি নিরাপত্তা গ্রুপ, আমরা কোন কারণ ছাড়া হ্যাকিং করি না।

এজন্য বিবিসি’র পক্ষ থেকে পরে ক্ষমা চেয়ে টুইট করা হয়।

অভিষেক অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে মিডিয়া প্রতারণা করছে: ট্রাম্প

Vision ad on bangla Tribune
অভিষেক অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে মিডিয়া প্রতারণা করছে: ট্রাম্প
বিদেশ ডেস্ক১২:৩৯, জানুয়ারি ২২, ২০১৭
128

ওবামা আর ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্টানে রেঅকসমাগমের ছবি দিয়ে তুলনা করা হচ্ছিল

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকজনের উপস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক লোকসমাগমের পরও সংবাদমাধ্যমগুলো তা কম করে বলেছে। ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণের সময়ও প্রতারণা করে কম লোক দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করেন ট্রাম্প। শনিবার ভার্জিনিয়ায় সিআইএ’র সদরদফতর পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসমাগম নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো মিথ্যা খবর প্রচার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ১৫ লাখের মতো মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল।’ এ সংখ্যাকে মিডিয়াগুলো আড়াই লাখ হিসেবে উল্লেখ করেছে বলে ক্ষোভ জানান ট্রাম্প।

তার দাবি, ওইদিন উপস্থিত লোকজনের সারি ওয়াশিংটন মনুমেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অবশ্য, সেদিন মিডিয়াগুলোর এরিয়াল শটে যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল তা ট্রাম্পের দাবির বিপরীত।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসারও এক সংবাদ সম্মেলনে ভুয়া সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, ওইদিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিশাল ও ফাঁকা জায়গা দেখিয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের এরিয়াল শটে ট্রাম্পের শপথ আর ওবামার প্রথম মেয়াদের শপথে লোকসমাগমের তুলনা করা হচ্ছিল।

শন স্পাইসার দাবি করেন ‘এবারের অভিষেক অনুষ্ঠানে মানুষের জমায়েত সবচেয়ে বেশি হয়েছে।’

তার অভিযোগ, ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে লোকসমাগম কম দেখাতে সাজানো ছবি তুলেছে মিডিয়াগুলো।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পরদিন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ নারী বিক্ষোভ করেছেন। এর মধ্যে ওয়াশিংটনের ‘নারী পদযাত্রা’য় অংশগ্রহণ করেন অন্তত পাঁচ লাখ নারী। বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে। ‘নারী পদযাত্রা’ হলেও নতুন মার্কিন নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু-কিশোররাও অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেন। আয়োজকরা বলছেন,‘এ বিক্ষোভ থেকে ট্রাম্পের প্রতি নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেবেন অন্তত পাঁচ লাখ মার্কিন নারী।’ ওয়াশিংটনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ক্যাটি পেরি, স্কারলেট জোহানসন,অ্যামি শুমার,প্যাট্রিসিয়া আরক্যুয়েট,এমা ওয়াটসনের মতো সেলিব্রিটিরাও।

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

হোয়াইট হাউস উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছি : ম্যাডোনা

ট্রাম্পবিরোধী একটি সমাবেশে মার্কিন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা বলেছেন, ‘হোয়াইট হাউস উড়িয়ে দেওয়ার কথা অনেক ভেবেছি আমি।’
স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সমাবেশে এ কথা বলেন ম্যাডোনা। সারা বিশ্বে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পবিরোধী নারীদের বিক্ষোভের একটি অংশ ছিল সেটি।

বিক্ষোভে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ম্যাডোনা বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। ন্যায়বিচার আসবে এবং শেষে ভালোর জয় হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের ভালোর জয় হয়নি। তবে শেষ জয়টা ভালোরই হবে।’
বিক্ষোভ সমাবেশকে বিদ্রোহের শুরু বলে আখ্যায়িত করে বিখ্যাত ওই গায়িকা বলেন, ‘আমরা পিছে ফিরে যাবো না। এটা একটা প্রত্যাশিত পরিবর্তনের শুরু মাত্র।’ ট্রাম্পের অভিষেক বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ক্ষুব্ধ। আমি ক্ষুব্ধ। আমি হোয়াইট হাউস পতনের কথাও ভেবেছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করেছিলেন ম্যাডোনা। হিলারির সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন তিনি।
অভিষেক গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ। বিশ্বজুড়ে ছয় শতাধিক ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেসব সমাবেশে নারী বিক্ষোভকারীদের সংখ্যাটাও চোখে পড়ার মতো।

উৎসঃ এনটিভি

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খোলা নিষেধ লেডি গাগার!

মার্কিন নির্বাচনের সময় ডেমোক্রেট রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন লেডি গাগা। জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত এই পপস্টার ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান সম্বলিত পোস্টার নিয়ে নেমে গেছেন রাজপথে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তাই লেডি গাগাকে মুখ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাইলেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেফাঁস কথা বলা যাবে না। লেডি গাগা অবশ্য নিজে থেকে এমন অবস্থান নেননি। তাকে বাধ্য করা হয়েছে।

আমেরিকার জাতীয় ফুটবল লীগ কর্তৃপক্ষ গাগার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যদিও সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাটালি রাভিজ এ ঘটনাকে মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, দেশের প্রধানসারির সংবাদমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি জন্য।

বিদায় ওবামা, স্বাগতম ট্রাম্প

শুভকামনা জানিয়ে সাংবাদিকদের বিদায় চিহ্ন দেখালেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাজনীতির ইতিহাসের সাড়া জাগানো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ শেষ করার পর বহু আলোচনা আর বহু তর্ক-বিতর্কের জন্ম নিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছেন ওবামা। স্থানীয় সময় বুধবার সবশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের শুভকামনা জানিয়ে বিদায় চিহ্ন দেখান তিনি। গণতন্ত্র রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অপরিহার্য ভূমিকার কথাও বলেছেন তিনি। বিদায়ী এই সংবাদ সম্মেলনে প্রায় এক ঘন্টা কথা বলেন ওবামা। এসময় হোয়াইট হাউজ প্রেস কর্পসকে ধন্যবাদ দেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।

মাঝে মধ্যে তাঁর কন্ঠ হতাশাজনক শোনালেও প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকরা থাকায় তাঁর কাজকর্ম আরো সুনিপুনভাবে করাটা সহজ হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার আপনাদেরকে দরকার। মার্কিন গণতন্ত্র রক্ষায় আপনাদেরকে দরকার’।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্ক, ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ওবামা। নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন পরামর্শ। তবে ওবামার শেষ সংবাদ সম্মেলনে সব ছাপিয়ে সমালোচনা তীর ছিল চেলসি ম্যানিংয়ের সাজা মওকুফ করে মুক্তির সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছিলেন বারাক ওবামা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। এর পর ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়ও বিজয়ী হন। শুরু থেকেই বিভিন্ন বিরোধিতা ও সমালোচনার মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে।

২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার শেষ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নই ছুড়ে দেওয়া হয়েছে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতি।

সংবাদ সম্মেলনে চেলসি ম্যানিং মুক্তির বিষয়ে তীব্র সমালোচনা:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দফায় দায়িত্ব পালনের মাত্র দুই দিন আগে শেষ সংবাদ সম্মেলন করে ফেললেন বারাক ওবামা। ফলে সংবাদ সম্মেলনটি নিয়ে বিশ্বের আগ্রহ ছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্ক, ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য উপদেশ বানিও। তবে ওবামার শেষ সংবাদ সম্মেলনে সব ছাপিয়ে সমালোচনা তীর ছিল চেলসি ম্যানিংয়ের সাজা মওকুফ করে মুক্তির সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার শেষ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নই ছুড়ে দেওয়া হয়েছে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতি।

যুক্তরাষ্ট্রের বহু দিনের পুরনো শত্রু রাশিয়া সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেছেন, দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক খানিকটা স্নায়ু যুদ্ধের মতো রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর স্নায়ু যুদ্ধের সময়কার সেই প্রতিপক্ষ মনোভাবের একটা পুরনো আঁচ যেন পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে দু’পক্ষের সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল প্রশ্নে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ভিত্তিতে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওবামা বলেছেন, উভয় পক্ষই শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল্যবান সুযোগ হারাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু সমালোচনার জবাব দিতে হয়েছে বারাক ওবামাকে। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ছিল চেলসি ম্যানিংয়ের মুক্তি নিয়ে। গোপন সরকারি নথিপত্র ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সেনা চেলসি ম্যানিং এর বাদবাকি সাজা মওকুফ করে দেওয়ার পর তার কড়া সমালোচনা করছে রিপাবলিকানরা। তবে সংবাদ মাধ্যমে ওবামা বলেছেন, ‘চেলসি ম্যানিংকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি (চেলসি) নিজের অপরাধের দায়িত্বও নিয়েছেন।’

৩৫ বছরের সাজা চেলসির অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি মন্তব্য করে ওবামা বলেন, ‘সাজা মওকুফ করে দেওয়ার ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ মুহূর্তে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছু উপদেশ বানিও দিয়ে গেছেন।
শেষ সংবাদসম্মেলনে উত্তরসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে কিছু উপদেশও দিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি শুধু তাদের কথাই শোনেন যারা আপনার সব কথায় সায় দেয়, আপনি যদি এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেন যেখানে প্রশ্ন করার কোনও সুযোগ নেই, তাহলে বুঝতে হবে আপনি ভুল করতে শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছিলেন বারাক ওবামা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। এর পর ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়ও বিজয়ী হন। শুরু থেকেই বিভিন্ন বিরোধিতা ও সমালোচনার মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে।

দিনের শুরুতেই বেপরোয়া ট্রাক কেড়ে নিল ১৫ শিশুর প্রাণ

ভারতের উত্তর প্রদেশে স্কুলবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৫ শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৪০ জন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজ্যের ইত্তা জেলার আলীগঞ্জে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মিনি বাসে করে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছিল। পথে বেপরোয়া গতির ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ওই হতাহতদের ঘটনা ঘটে। তাদের সবার বয়স সাত থেকে ১০ বছরের মধ্যে। তারা স্থানীয় একটি সরকারি জুনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থী।

উত্তর প্রদেশের পুলিশের মহাপরিচালক জাবেদ আহমেদ জানিয়েছেন, ১৫ জন শিশু মারা গেছে। বাকি আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ঘন কুয়াশার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করে দ্রুত আহত শিশুদের চিকিৎসাক ব্যবস্থা করছেন। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি নার্সিংহোমেও পড়ুয়াদের চিকিৎসা চলছে।

গরু অক্সিজেন ত্যাগ করে: রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী

গরু যে অক্সিজেন গ্রহণ করে, এতোদিন ধরে তা জেনে আসলেও এবার ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বাসুদেব দেবনানি এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, গরু নাকি এমন এক প্রাণী, যে শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করে আবার অক্সিজেনই ত্যাগ করে! জয়পুরে একটি অনুষ্ঠানে গরুর উপকারিতার ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’ দিতে গিয়েই গরুকে ‘সুপারপাওয়ার’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।

শনিবার জয়পুরের অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন আয়োজিত হিঙ্গোনিয়া গো-পুনর্বাসন কেন্দ্রের এক অনুষ্ঠানে বাসুদেব দেবনানি গরু মাহাত্ম্য বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘গরু পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে ও অক্সিজেনই পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। গরুই পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী, যার এই সুপার পাওয়ার রয়েছে। এই বিজ্ঞানসম্মত বিষয়টি সবার বোঝা উচিত।’

রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও বলেন, ‘গরুর কাছে গেলে সর্দি-কাশির মতো রোগ ভালো হয়ে যায়।’ দেবনানির আরেক দাবি, “গরুর গোবরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে।” তিনি পুরো দেশে গরু সংরক্ষণ ও উন্নয়নে যুবকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি গৃহপালিত এই প্রাণীটিকে নিয়ে অনেকবারই প্রকাশ্যে রাজনীতি হয়েছে। তবে এমন মন্তব্য, তাও একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে সম্ভবত এর আগে আসেনি। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশটির শিক্ষামহল। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যে ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

তবে মন্ত্রীর দাবির উল্টো কথা বলছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটির খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) ২০০৬ সালের একটি প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, সমাজে গরু উপকারী প্রাণী। কিন্তু গরুর পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে বাতাসে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। গরুসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু ১৮ শতাংশ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি গরু বছরে ৭০ থেকে ১২০ কিলোগ্রাম মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই মিথেন একটি গ্রিনহাউজ গ্যাস। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ২৩ গুণ বেশি ক্ষতিকর এই মিথেন। এর ক্ষতির কার্যকারিতা এক বছরে ২৩০০ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি, খোলা বাতাসে ১০০০ লিটার পেট্রল পুড়লে যে দূষণ হয়, একটি গরু বছরে সেই পরিমাণ মিথেন উৎপন্ন করে। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি গাড়ি এক বছরে বাতাসে যা দূষণ করে, তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতিকর গ্রিনহাউজ গ্যাস উৎপন্ন করতে পারে একটি গরু।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ক্ষমতায় আসার পর অনেক স্থানেই গরু জবাই, গরুর মাংস ক্রয়-বিক্রয় ও খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কাছে গরু পবিত্র প্রাণী বলে পরিচিত হলেও, বর্তমানে এটি ভারতের একটি রাজনৈতিক ইস্যু। আর এই গরুর মাংস খাওয়া ও গরু জবাইয়ের ‘অভিযোগে’ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও সামনে এসেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

১২০ কোটি টাকা মূল্যের ট্রাম্পের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি! (ভিডিওসহ)

বিলাসবহুল ক্যাডিলাক গাড়ি নির্বাচিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য। সেই গাড়িতে করে নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে যাবেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল শনিবার এ খবর জানিয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের গাড়িটি অতীতের অন্যান্য প্রেসিডেন্টের ব্যবহার করা গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। বিশ্বখ্যাত জেনারেল মোটরস কোম্পানি গাড়িটি তৈরি করেছে। আর এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

ক্যাডিলাক গাড়িটি অস্ত্রে সজ্জিত থাকবে। এতে একটি শটগান, টিয়ারগ্যাস কামান, অক্সিজেন সাপ্লাই এবং জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্রেসিডেন্টের গ্রুপের রক্তের বোতল থাকবে। গাড়িটিতে সামনে দুজন, মাঝখানে তিনজন এবং পেছনে দুজন বসতে পারবেন।

গাড়িটি শক্তিশালী স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়াম ও সিরামিকস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। গাড়ির নিচে স্টীলের একটি প্লেট রয়েছে। যা গাড়িটিকে রাস্তার পাশের পুঁতে রাখা বোমা থেকে রক্ষা করবে। এ ছাড়া গাড়িটির সামনে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

গাড়িটির দরজা-জানালা থাকবে বুলেটপ্রুফ। শুধু তাই নয়, প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পুরু এই দরজা-জানালাগুলো যেকোনো ধরনের রাসায়নিক (কেমিক্যাল) ও জৈব রাসায়নিক (বায়োকেমিক্যাল) আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। আর শুধু গাড়িটির চালকই টোল পরিশোধের জন্য জানালার কাঁচ নিচে নামাতে পারবেন।

তবে গাড়িটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি গাড়ির যে মডেলের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে গাড়িটির এসব বৈশিষ্টই জানা গেছে।

নতুন মডেলের গাড়িটি বারাক ওবামার ব্যবহৃত গাড়ির জায়গা দখল করবে।

বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আরএসএস প্রধানের

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) প্রধান মোহনরাও মধুকর ভাগবত বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা নিজেদের দোষেই আক্রান্ত হচ্ছেন। দুর্দশার জন্য তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকে দায়ী করতে পারেন না। গতকাল শনিবার কলকাতায় এক জনসভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আরএসএস যে কোনও সম্প্রদায়ের বিরোধিতা না করে শুধু হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত, সেই দাবিও করেন সঙ্ঘপ্রধান।

বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুরা কেন নির্যাতিত, সেটা ভেবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেখানে অমন অবস্থার জন্য হিন্দুরা নিজেরাই দায়ী। হিন্দুদের সে দেশে আক্রমণ বা নির্যাতনের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কারণ তারা শক্তিশালী নন, ঐক্যবদ্ধ নন।’

গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষিতেই সম্ভবত এমন মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান ভাগবত। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনও হামলার কথা উল্লেখ করেনি। অবশ্য বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে ভারতে এতদিন নানা ব্যাখ্যা শোনা গেলেও তার এই বক্তব্যকে অভিনবই বলতে হবে।

আরএসএস যে কোনও সম্প্রদায়ের বিরোধিতা না করে শুধু হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত, সেই দাবিও করেন সঙ্ঘপ্রধান।

ভারতে বিজেপি সরকারের ঘোষিত নীতি, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নির্যাতিত হয়ে ভারতে এলে তারা আশ্রয় পাবেন বা শরণার্থীর মর্যাদা পাবেন। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকত্ব বা অন্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। তবে এমন ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের ভারতে চলে আসার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে কিনা, এমন অভিযোগও উঠছে।

এমন পটভূমিতে আরএসএস প্রধানের মন্তব্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা দলে দলে ভারতে চলে না এসে বরং দেশে থেকেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুক, সম্ভবত এমনটাই তারা চাচ্ছেন। আরএসএসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা সম্প্রতি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা কেন চলে আসবেন? সে দেশের জমিতে তাদের অধিকার কারও চেয়ে কম নয়। তা বজায় রাখতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও প্রয়োজনে লড়তে হবে।’

বাংলাদেশের হিন্দুদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানাতে আরএসএস প্রধানের কলকাতাকে বেছে নেওয়ার পেছনেও তাৎপর্য আছে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ইসলাম-তোষণের রাজনীতি করছে এবং হিন্দুদের নিজস্ব ধর্মীয় আচার-আচরণ করতে দিচ্ছে না, এই অভিযোগ নিয়ে মাস কয়েক আগেই আরএসএস রাজ্যপালের শরণাপন্ন হয়েছিল।

এমনকি শনিবারের সমাবেশ করার জন্যও আরএসএস প্রথমে রাজ্য সরকারের অনুমতি পায়নি। পরে হাইকোর্ট শহরের পুলিশ প্রধানের কৈফিয়ত তলব করার পর তারা সমাবেশের অনুমতি পায় এবং হিন্দুদের একজোট করার ডাক দিতে মোহন ভাগবত সেই সভামঞ্চকেই বেছে নেন।

আরএসএস-কে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক ধরা হলেও সংগঠনটির দাবি, তারা সরকারের দৈনন্দিন কাজ বা রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী নয়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ভারতে হিন্দু সমাজের উন্নয়ন ও বিকাশ।

এ প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘কারও বিরোধিতা করার জন্য আমাদের এই সংগঠনের জন্ম হয়নি। আমরা শুধু নিজেদের শক্তিশালী করে তুলতেই এই সঙ্ঘকে গড়ে তুলেছি।’ সমাবেশে তার প্রশ্ন, ‘এই দেশে হিন্দু সমাজের এক মহান ইতিহাস আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের অবস্থা কি আগের মতো আছে? তারা কি নিজেদের ধর্মীয় আচার-আচরণ স্বাধীনভাবে পালন করতে পারছেন? তাদের মানবাধিকার কি সুরক্ষিত?’

যৌন নিপীড়ন নিয়ে মুখ খুলছেন ইসরায়েলের নারীরা

দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাবান কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে৷ নারীরাও এখন এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনায় উৎসাহী হচ্ছেন৷
গত ডিসেম্বরে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশে কাতসাভকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়৷ ধর্ষণের দায়ে তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হয়৷ এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ বছর জেলে কাটিয়েছেন৷ তবে তারপরও নিজের অপরাধ নিয়ে তাঁকে কোনো অনুশোচনা করতে দেখা যায়নি৷
তার আগে গত বছরের জুলাইতে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওফেক বুখরিস৷ তার বিরুদ্ধে তরুণ এক নারী সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে অনুমতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা ও আরেক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল৷ তিনি এসব অভিযোগ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগের হাত থেকে রেহাই পান৷
ইসরায়েলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মুদ্রা৷ ‘ব্রেইল’-এর মতো বর্ণের সহায়তায় কাগুজে নোটগুলোতে লেখা থাকে বলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কেনাকাটা বা মুদ্রা বিনিময়ে কোনো অসুবিধা হয় না৷ সারা বিশ্বে ইসরায়েল ছাড়া ক্যানাডা, মেক্সিকো, ভারত আর রাশিয়াতেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এই বিষেষ ব্যবস্থা রয়েছে৷
কিন্তু বুখরিসকে এভাবে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন ইসরায়েলি নারীরা৷ সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়৷ বিক্ষোভের আয়োজক নোগা শাহার বার্তা সংস্থা এএফপিকে একজন বিচারকের শাস্তির উদাহরণ দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ের প্রতিবাদ হওয়া উচিত৷ নোগা শাহার যে বিচারকের কথা বলেছেন তাঁর নাম ইতঝাক কোহেন৷ আদালতের এক নারী কর্মীকে জোর করে নিজের কোলে বসানো ও অনুমতি না নিয়ে তাঁর ব্লাউজের নীচে স্পর্শ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল কোহেনের বিরুদ্ধে৷ ঐ অভিযোগের পর কোহেন তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেন৷ এরপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করায় তাঁকে কারাদণ্ড না দিয়ে কমিউনিটি সার্ভিসে অংশগ্রহণ ও ভুক্তভোগীকে ৬০০ ইউরো (প্রায় ৫০ হাজার টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হতে পারে৷
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন সাংসদ সহ আরও কয়েকজন ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে৷ নোগা শাহার বলছেন, ‘‘এমন না যে হঠাৎ করে এ সব অপরাধ বেড়ে গেছে৷ আসলে যেটা হয়েছে, মেয়েরা এখন আর এ সব বিষয় লুকিয়ে রাখছে না৷ তাঁরা এ সব সবাইকে জানাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে৷”
‘অ্যাসোসিয়েশন অফ রেপ ক্রাইসিস সেন্টার্স ইন ইসরায়েল’ বা এআরসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক ওরিট সুলিতজেনু বলেন, তাদের মতো সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সংখ্যা অনেক বেড়েছে৷ ২০১৫ সালে তারা ৯,১৯৭ টি অভিযোগ পেয়েছেন৷ ২০১০ সালে সেটি ছিল ৭,৮৫৮৷ অর্থাৎ পাঁচ বছরে অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ৷-ডয়েচে ভেলে