Category Archives: ইসলাম

শেষ হলো ইজতেমার প্রথম পর্ব

মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।

আজ রোববার বেলা ১১টার পর মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া গুলশানের বাসা থেকে মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর আগে অনুষ্ঠিত হয় হেদায়েতি বয়ান। হেদায়েতি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমার তিন দিনের প্রথম পর্ব। এর পর চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

মহান আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় দ্বীনের দাওয়াতে মেহনত করার জন্য ইসলামের মর্মবাণী সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন টঙ্গীর তুরাগতীর ইজতেমা ময়দানে। শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। আজ আখেরি মোনাজাতের পরও মানুষের এ ঢল অব্যাহত ছিল।

২০১৫ সাল থেকে দেশের ৬৪টি জেলাকে দুই বছরে চার পর্বে বিভক্ত করে ইজতেমার আয়োজন করায় এবারের প্রথম পর্বের ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে সময় কাটিয়েছেন। এলাকাবাসীও নানা ভোগান্তি থেকে অনেকটা মুক্ত ছিল।

বিশ্ব ইজতেমায় আরো এক মুসল্লির মৃত্যু

টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এসে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তারা মিয়া (৫৫) নামে আরো এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিয়ে আরো ৬ মুসল্লির মৃত্যু হয়। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমায় ৭ মুসল্লির মৃত্যু হয়।

আগে নিহত ছয়জন হলেন ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার মাছিমপুর এলাকার বাবুল মিয়া (৬৫), মানিকগঞ্জের সাহেব আলী (৪০), কক্সবাজারের হোসেন আলী (৬০), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গা এলাকার আব্দুস সাত্তার (৬৫), টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার নিজবন্নী এলাকার জানু ফকির (৬৮) এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মারুয়া এলাকার ফজলুল হক (৬০)। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় তুরাগ পাড়ে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখর ইজতেমা ময়দান

দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে ইবাদত, বন্দেগি, জিকির, আসকার আর আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখর টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার দিনভর তুরাগ তীরের ইজতেমা মাঠে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে চলছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান।

দুই দিন ধরে ইজতেমা মাঠে সার্বক্ষণিক ইবাদতে মগ্ন রয়েছেন লাখো দেশি-বিদেশি মুসল্লি। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আমবয়ান হচ্ছে। শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরুব্বিরা তাবলিগের ছয় ওছুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বীনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করছেন।

বয়ানে তারা বলেন, দুনিয়াতে যে একবার আসবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আল্লাহপাকের এ সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না। দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকার ঘর। মিছে এই দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে আখেরাতের কথা চিন্তা করুন। ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনে কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে কাটাচ্ছেন। তবে তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি। শীত বস্ত্র মুড়িয়ে ইজতেমায়ী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন তারা।

ইজতেমা ময়দানের মুরব্বি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন জানান, শনিবার দ্বিতীয় দিনে হেদায়েত ও তাশকিলের বয়ান হবে। কাল আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেবেন দেশের ১৬ জেলার মুসল্লিরা।

এবার ১২৭০০০ বাংলাদেশি হজের সুযোগ পাচ্ছেন

চার বছর পর হজযাত্রীর পূর্বনির্ধারিত কোটা ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার বেশি। আর আগামী রবিবার শুরু হচ্ছে হজে গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধন।

খরচও কিছুটা বাড়তে পারে এবার। পবিত্র হেরেম শরিফ সংস্কারকাজের জন্য ২০১৩ সাল থেকে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা ২০ শতাংশ কমিয়ে দেয় সৌদি আরব। এই নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছর পর্যন্ত এ দেশের হজযাত্রীর কোটা ছিল এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন।
সংস্কারকাজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার হজযাত্রীর পূর্ণ কোটা ফিরিয়ে দেওয়ার আভাস দিয়েছে দেশটি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল। জানা গেছে, চলতি বছর হজে যাওয়ার খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।

সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দুটি হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবারের হজ নীতিমালা। শিগগিরই এ দুটি বিষয় মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হচ্ছে। তবে প্রাক-নিবন্ধন শুরুর আগে প্যাকেজ ঘোষণা হচ্ছে না।
সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের হজযাত্রীদের অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার। তবে এদিন থেকে শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন করা হবে। আর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক হজযাত্রীকে নিবন্ধন ফিসহ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল বলেন, ‘পবিত্র হেরেম শরিফ সংস্কারের কাজ এপ্রিলের দিকে শেষ হয়ে যাবে। তাই আমরা আশা করছি, এ বছর আগের মতো বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার হবে। ’ এ বছর হজ প্যাকেজে খরচ কিছুটা বাড়বে বলেও আভাস দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় হজযাত্রীর কোটা ওপেন হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।
সে ক্ষেত্রে এক লাখ ২৭ হাজারের কিছু বেশিসংখ্যক মুসল্লি এবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি দেয়নি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে এবারের হজচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার কথা।

সেই সময় হজযাত্রীর কোটার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ’ তিনি জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হচ্ছে রবিবার। এর সপ্তাহখানেক পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হতে পারে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী নিবন্ধন যথাসময়ে শুরু না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে হজ অফিসের আইটি কর্মকর্তা কবির আল মামুন জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনার নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলেও বেসরকারি এজেন্সি-সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার। ২৩ জানুয়ারি তা শেষ হতে পারে। তার পরই বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হতে পারে। আর এই নিবন্ধন কার্যক্রম কত দিন চলবে তা এখনো ঠিক হয়নি।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১৭ হাজার ব্যক্তির হজে যাওয়ার সুযোগ হতে পারে। এর মধ্যে গেল বছর প্রাক-নিবন্ধিত প্রায় ৪০ হাজার ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবেন। কোটার অতিরিক্ত হওয়ায় তাঁরা গেল বছর হজে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

সূত্র জানায়, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রতি তিন লাখ ৭৩ হাজার ৬৭২ টাকা। বি-প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে তিন লাখ আট হাজার ৬২৮ টাকা। এ ছাড়া প্রত্যেক হজযাত্রীকে কোরবানি খরচ বাবদ সাড়ে ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ৫০০ সৌদি রিয়াল নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে। ২০১৬ সালে এই প্যাকেজের মূল্য ছিল জনপ্রতি তিন লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা আর বি-প্যাকেজের মূল্য ছিল তিন লাখ চার হাজার ৯০৩ টাকা।

সারা দেশ থেকেই সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন করা যাবে। এ জন্য এরই মধ্যে ৬৪টি জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসার, জেলা প্রশাসক অফিসের সহকারী আইটি প্রোগ্রামার, ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে হজ অফিসের আইটি বিভাগ।

সূত্র: কালের কন্ঠ

১৩ জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

রাজধানীর সন্নিকটে টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ১৩ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব-ইজতেমার প্রথম পর্ব। এরপর ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা।

এবারো পাঁচ স্তরের র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবায় ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের পশ্চিমে তুরাগ নদের ওপর সাতটি পন্টুন ব্রিজ তৈরি করবে সেনাবাহিনী। ইজতেমায় আগত ব্যক্তিদের তিন স্তরে নিরাপত্তা দেবে র‌্যাব।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল টহল, নৌ টহল ও হেলিকপ্টারে টহলে থাকবেন র‌্যাবের সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাদাপোশাকে পুরো ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেবেন। র‌্যাবের নয়টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে ইজতেমা ময়দানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ইজতেমার মোনাজাতের দিন ১১৫টি ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে টঙ্গী স্টেশনে। মুসল্লিদের জন্য অজু, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার ও ভ্রাম্যমাণ টিকিট বিক্রি করা হবে। বিআরটিসির ৩৫০টি বাস মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

এ ছাড়া বিদেশি মেহমানদের কাকরাইল মসজিদ এবং বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা ময়দানে আনার জন্য পর্যাপ্ত এসি বাস বরাদ্দ থাকবে। ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার নতুন একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা।

– See more at: http://www.bd24live.com/bn/article/114912/index.html#sthash.hXOoFhlD.dpuf

জান্নাত সম্পর্কে বিশ্ব নবীর চল্লিশ কথা !

জান্নাত সম্পর্কে বিশ্ব নবীর চল্লিশ কথা-

১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]

২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]

৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। [মুসলিম- আনাস রা.)]

৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই ইবনে সামেত (রা.)]

৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)

৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে। তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]

৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]

৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা (রা.)]

১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের পেশাব পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না। (ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ) তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী। (ছ) তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের। (জ) তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি। (ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ) তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম (আ:) এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে। [বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]

১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না। পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]

১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি, তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]

১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান, জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]

১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী। কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কো এক স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী, ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]

২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)] ২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে। [তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]

২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০ কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা (রা.)]

৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃেিত রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]

৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর কখনো পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে। কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে, জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই। তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব (রা.)]

৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ (রা.)]

৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি। তারা বলবে-
আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।
আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ দুশ্চিন্তা হবে না।
আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো নাখোশ হবো না।
সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]

৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে।- [তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]

৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে। তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল কাটা হবে। এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও, কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী – আবু হুরায়রা (রা.)]

৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে। একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, “আমি অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর ৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ- আবু সাঈদ (রা.)]

৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না। [বায়হাকী- যাবের (রা.)]

৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। [মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]

৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন- আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। তখন তা খুলে দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। (আহমদ আবু দাউদ)

৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে (সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০ জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী হযরত আলী হতে)

পা ছুঁয়ে সালাম করা কি জায়েজ?

প্রশ্ন : আমরা যে পা ছুঁয়ে সালাম করি সেটার কি ইসলামে বৈধতা আছে? এটা কি আমরা গুনাহর কাজ করছি না?

উত্তর : সালাম তো আমাদের কাছে খুবই স্পষ্ট বিষয়, যা ওহির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। এটি কারো তৈরি করা বিষয় না। বরং আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা যখন আদম (আ.) কে সৃষ্টি করেছেন, সর্বপ্রথম আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ সালাম শিক্ষা দিয়েছেন এবং এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন যে এটি কেয়ামত পর্যন্ত আগত তোমার সন্তানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অভিবাদন।

সুতরাং এ সালামের শব্দ নির্দিষ্ট। এর মধ্যে বৃদ্ধি করাও জায়েজ নেই, নতুন করে তৈরি করাও জায়েজ নেই। সুতরাং পা ছুঁয়ে আপনি যেটাকে সালাম বলছেন, এটি সালামই না। ইসলামী পরিভাষায় এটিকে সালাম বলা হয় না। তাই এ কাজ মূলত একেবারেই গর্হিত কাজ।

বরং এটা আমরা নিজেরাই আবিষ্কার করে নিয়ে একটা অবস্থা তৈরি করে নিয়েছি। অথবা আমরা কারো অনুকরণ, অনুসরণ করছি। বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে অনুসরণ করছি।

এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এমন একটি পর্যায় রয়েছে যে পর্যায়ে নিজেকে অনেকটা কোনো ব্যক্তির কাছে অবনত করা অথবা সিজদাহ করার মতো অবস্থা তৈরি হয়, যা একটি অসম অবস্থা। একজনের পা একজনের হাত। যেটি সত্যিকার অর্থে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকটাই বলা যেতে পারে ইসলামের সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই গড়মিল রয়েছে। কারণ ইসলাম মানুষদের মর্যাদা দিয়েছে কিন্তু কোনো মানুষের সামনে কোনো মানুষ এভাবে অবনত হবে না।

আবার এ সঠিক মন্তব্যটি মেনে যদি গ্রামের কোনো নববধূ গৃহপ্রবেশের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি বা মুরুব্বিদের সালাম না করেন তাহলে অনেক সময় সে নববধূর জীবনটাকে যা-তা করে ফেলা হয়, তাঁকে বেয়াদব বলা হয়।

এ ক্ষেত্রে আমাদের লোকজনকে সচেতন করতে হবে, বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে হবে যে, যেহেতু আমরা মুসলিম, আমাদের ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে। ইসলামের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে।

কেউ যদি না জেনে কদমবুচি করে অথবা এ জাতীয় পরিবেশে বাধ্য হয়ে করে তাঁর গুনাহ হবে। তবে তিনি তওবা করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। আল্লাহ হয়তো পরিস্থিতি বিবেচনায় মাফ করতে পারেন। যদি তিনি এ ধরনের কোনো অবস্থার মুখোমুখি হন আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা তাঁকে যেন ক্ষমা করেন।

অর্থসহ আল্লাহর ৯৯ টি নাম জানুন..?

“তিনিই আল্লাহ্‌, যিনি ছাড়া লা ইলাহা ইল্লা হুয়া (আর কেউ নাই উপাসনা করার), দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান জগতের সব ব্যাপারে যিনি সম্যক অবগত। তিনি সবচাইতে দয়ালু, সবচাইতে ক্ষমাশীল। তিনিই আল্লাহ্‌, যিনি ছাড়া লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, যিনি সবকিছুর অধিপতি, পূতঃপবিত্র, সবকিছুর উর্ধে, নিরাপত্তা প্রদানকারী, অভিভাবক, সর্বশক্তিমান, সমুচ্চ, গৌরবান্বিত, সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, তারা তাঁর সাথে যা কিছু শরিক করে সেগুলা থেকে তিনি অনেক উর্ধে। তিনি আল্লাহ্‌, যিনি শূন্য থেকে সৃষ্টি শুরু করেছেন, সবকিছু তৈরি করেছেন, আকৃতি দিয়েছেন। সবচাইতে ভাল নামগুলি তাঁর জন্যই প্রযোজ্য। মহাকাশ এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁর মহত্ত্ব বর্ণনা করে, এবং তিনিই সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ।” [৫৯:২২-২৪]

এখানে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর কিছু গুণবাচক নামের উল্লেখ করেছেন।

একইভাবে কুর’আনের অন্যত্র আল্লাহ্‌ বলেছেন,

“…এবং (সব) সুন্দর সুন্দর নাম আল্লাহ্‌ তা’আলার জন্য, সুতরাং তাঁকে এসব নামেই ডাক।” [৭:১৮০]

এবং,

“..বল (ও মুহাম্মাদ): আল্লাহ্‌ বলেই ডাক কিংবা সবচাইতে দয়ালু (আল্লাহ্‌) বলেই ডাক, যে নামেই ডাকনা কেন (সবই এক), কারণ সবচাইতে ভাল নামগুলা তাঁর জন্যই।” [১৭:১১০]

আবু হুরাইরাহ্‌ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“আল্লাহ্‌ তা’আলার রয়েছে নিরানব্বইটি নাম, একশো থেকে একটি কম, যে এই নামগুলি মনে রাখবে, বুঝবে এবং উপলব্ধি করবে, সে জান্নাহ -তে যাবে।” [বুখারি ৩.৫০:৮৯৪, মুসলিম ৩৫:৬৪৭৬, আত-তিরমধি ৫১.৮৭:৫১৩৮]

“আল্লাহ্‌” এই নামটি হচ্ছে সব নামের মধ্যে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ। বাদবাকি নামগুলি (আত-তিরমিধি হতে) অর্থসহ নিচে দেয়া হল। ইনশা’আল্লাহ আমরা আমাদের সুবিধামত সময়ে এবং উপায়ে এই নামগুলি মনে রাখার চেষ্টা করব! প্রতিদিন কমপক্ষে ৩টি করে প্রায় এক মাসে, কিংবা ৫টি করে প্রায় ২০ দিনে, কিংবা ১০টি করে ১০দিনে এই নামগুলি মুখস্থ করে ফেলি। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে জান্নাহ –এর অধিবাসী করুক। আমীন!

১. আল্লাহ্ (الله) – আল্লাহ্‌ (The Greatest Name)
২. আর রহিম (الرحمن) – পরম দয়ালু (The Exceedingly Merciful)
৩. আর রহমান (الرحيم) – পরম দয়াময় (The Exceedingly Compassionate, The Exceedingly Beneficent, The Exceedingly Gracious)
৪. আল জাব্বার (الملك) – পরাক্রমশালী (The Irresistible, The Compeller)
৫. আল ʿআজিজ (العزيز) – সর্বশক্তিমান, বলশালী (The Almighty, The Invulnerable, The Honorable, The Victorious)
৬. আল মুহায়মিন (المهيمن) – রক্ষণ ব্যবস্থাকারী (The Guardian)
৭. আল মুʿমিন (العزيز) – নিরাপত্তা বিধায়ক (The Guarantor, The Affirming, The Inspirer of Faith)
৮. আস সালাম (السلام) – শান্তি বিধায়ক (The Peace, The Source of Peace and Safety)
৯. আল কুদ্দুস (القدوس) – নিষ্কলুষ (The Holy, The Divine, The Pure One, The Purifier)
১০. আল মালিক (الملك) – সর্বাধিকারী (The King, The Sovereign, The Absolute Ruler)
১১. আল ওয়াহহাব (الوهاب) -মহা বদান্য (The Bestower, The Giver of All)
১২. আল কাহহার (القهار) -মহাপরাক্রান্ত (The Subduer)
১৩. আল গাফফার (الغفار) – মহা ক্ষমাশীল (The Repeatedly Forgiving, The Forgiving)
১৪. আল মুসাওবির (المصور) – রূপদানকারী (The Fashioner, The Shaper, The Designer, The Shaper of Beauty)
১৫. আল বারী (البارئ) – উন্মেষকারী (The Evolver, The Developer, The Maker of Order)
১৬. আল খালিক (الخالق) – সৃষ্টিকারী (The Creator)
১৭. আল মুতাকাব্বির (المتكبر) -অহংকারের ন্যায্য অধিকারী (The Majestic, The Supreme, The Greatest)
১৮. আল রাফিʿ (الرافع) – উন্নয়নকারী (The Exalter)
১৯. আল খাফিদ (الخَافِض) – অবনমনকারী (The Abaser, The Humiliator)
২০. আল বাসিত (الباسط) -সম্প্রসারণকারী (The Extender / Expander, The Reliever)
২১. আল কাবিদ (القابض) -সংকোচনকারী (The Restrainer, The Straightener, The Constrictor)
২২. আল আলীম (العليم) – মহাজ্ঞানী (The All-Knowing, The Knower of All, Omniscient)
২৩. আল ফাত্তাহ (الفتاح) – মহাবিজয়ী, বিজয়দানকারী (The Opener, The Victory Giver)
২৪. আর রাজ্জাক (الرزاق) – জীবিকা দাতা (The Provider, The Sustainer)
২৫. আল লাতিফ (اللطيف) – সুক্ষদক্ষতাসম্পন্ন (The Gentle, The Subtly Kind, The Subtle One)
২৬. আল ʿআদল (العدل) – ন্যায়নিষ্ঠ (The Utterly Just)
২৭. আল হাকাম (الحكم) – মিমাংসাকারী (The Judge, The Arbitrator)
২৮. আল বাসির (البصير) – সর্ব দ্রষ্টা (The All Seeing)
২৯. আস সামীʿ (السميع) – সর্বশ্রোতা (The All Hearing)
৩০. আল মুযিল (المذل) – হতমানকারী (The Giver of Dishonor, The Humiliator)
৩১. আল মুʿইয্ (المعز) – সম্মানদাতা (The Giver of Honor, The Bestower of Honors)
৩২. আল কাবীর (الكبير) – বিরাট, মহৎ (The Greatest)
৩৩. আল ʿআলী (العلي) – অত্যুচ্চ (The Sublime, The Highest)
৩৪. আশ শাকুর (الشكور) – গুণগ্রাহী (The Grateful, The Rewarder of Thankfulness)
৩৫. আল গফুর (الغفور) – ক্ষমাশীল (The Much-Forgiving, The Forgiver and Hider of Faults)
৩৬. আল ʿআজীম (العظيم) – মহিমাময় (The Magnificent)
৩৭. আল হালীম (الحليم) – সহিষ্ণু (The Forbearing, The Indulgent)
৩৮. আল খাবীর (الخبير) – সর্বজ্ঞ (The All Aware)
৩৯. আল মুজিব (المجيب) – প্রার্থনা গ্রহণকারী (The Responsive, The Answerer, The Responder to Prayer)
৪০. আর রাকীব (الرقيب) – নিরীক্ষণকারী (The Watchful One)
৪১. আল কারীম (الكريم) – মহামান্য (The Bountiful, The Generous)
৪২. আল জালীল (الجليل) – প্রতাপশালী (The Majestic, The Mighty)
৪৩. আল হাসীব (الحسيب) – মহাপরীক্ষক (The Bringer of Judgment, The Accounter)
৪৪. আল মুকিত (المقيت) – আহার্য দাতা (The Nourisher)
৪৫. আল হাফীজ (الحفيظ) – মহারক্ষক (The Preserver)
৪৬. আল হাক্ক (الحق) – সত্য (The Truth, The Reality)
৪৭. আশ শাহীদ (الشهيد) – প্রত্যক্ষকারী (The Witness)
৪৮. আল বাইছ (الباعث) – পুনরুত্থানকারী (The Resurrector)
৪৯. আল মাজীদ (المجيد) – গৌরবময় (All-Glorious, The Majestic One)
৫০. আল ওয়াদুদ (الودود) – প্রেমময় (The Loving One)
৫১. আল হাকীম (الحكيم) – বিচক্ষণ (The All-Wise, The Perfectly Wise)
৫২. আল ওয়াসিʿ (الواسع)- সর্বব্যাপী (The Vast, The All-Embracing, The All-Comprehending, The Omnipresent, The Boundless)
৫৩. আল মুবদী (المبدئ)- আদি স্রষ্টা (The Originator, The Producer, The Initiator)
৫৪. আল মুহসী (المحصي) – হিসাবগ্রহণকারী (The Accounter, The Numberer of All, The Appraiser)
৫৫. আল হামিদ (الحميد) – প্রশংসিত (The All Praiseworthy, The Praised One)
৫৬. আল ওয়ালী (الولي) – অভিভাবক (The Friend, Patron and Helper)
৫৭. আল মাতীন (المتين) – দৃঢ়তাসম্পন্ন (The Firm, The Steadfast, The Forceful One)
৫৮. আল কায়ুয়ী (القوي) – শক্তিশালী (The Strong, The Possessor of All Strength)
৫৯. আল ওয়াকীল (الوكيل) – তত্বাবধায়ক (The Trustee, The Dependable, The Advocate)
৬০. আল মাজিদ (المجيد) – মহান (All-Glorious, The Majestic)
৬১. আল ওয়াজিদ (الواجد) – অবধারক (The Perceiver, The Finder, The Unfailing)
৬২. আল কায়্যুম (القيوم) – স্বয়ংস্থিতিশীল (The Subsisting, The Self-Existing One)
৬৩. আল হায়্যু (الحي) – জীবিত (The Living, The Ever Living One)
৬৪. আল মুমীত (المميت) – মরণদাতা (The Bringer of Death, The Taker of Life)
৬৫. আল মুহয়ী (المحيي) – জীবনদাতা (The Giver of Life)
৬৬. আল মুʿঈদ (المعيد) – পুনঃসৃষ্টিকারী (The Restorer, The Reinstater Who Brings Back All)
৬৭. আল আওয়াল (الأول) – অনাদী (The First, The Beginning-less)
৬৮. আল মুʾয়াখখীর (المؤخر) – পশ্চাদবর্তীকারী (The Delayer, He Who Puts Far Away)
৬৯. আল মুকাদ্দিম (المقدم) – অগ্রবর্তীকারী (The Expediter, He Who Brings Forward)
৭০. আল মুকতাদীর (المقتدر) – প্রবল, পরাক্রম (The Creator of All Power)
৭১. আল কাদীর (القادر) – শক্তিশালী (The All-Powerful, He Who is able to do Everything)
৭২. আস সামাদ (الصمد) – অভাবমুক্ত (The Eternal, The Absolute, The Self-Sufficient, The Satisfier of All Needs)
৭৩. আল ওয়াহিদ (الواحد) – একক (The One, The Unique, The All Inclusive, The Indivisible)
৭৪. আত তাওয়াব (التواب) – তওবা গ্রহণকারী (The Ever Returning, Ever Relenting, The Guide to Repentance)
৭৫. আল বার্র (البر) – ন্যায়বান (The Good, The Beneficent, The Doer of Good)
৭৬. আল মুতাʿআলী (المتعالي) – সুউচ্চ (The Supremely Exalted, The Most High, The Supreme One)
৭৭. আল ওয়ালী (الوالي) – কার্য নির্বাহক (The Patron, The Protecting Friend, The Friendly Lord, The Governor)
৭৮. আল বাতিন (الباطن) – গুপ্ত (The Hidden One, The Unmanifest, The Inner)
৭৯. আল জাহির (الظاهر) – প্রকাশ্য (The Manifest One, The Evident, The Outer)
৮০. আল আখির (الأخر) – অনন্ত (The Last, The Endless)
৮১. আল মুকসিত (المقسط) – ন্যায়পরায়ণ (The Requiter, The Equitable One)
৮২. যুল জালাল ওয়ালইকরাম (ذو الجلال والإكرام) – মহিমান্বিত ও মাহাত্ম্যপূর্ণ (The Lord of Majesty and Generosity, The Lord of Majesty and Bounty)
৮৩. মালিকুল মুলক (مالك الملك) – রাজ্যের মালিক (The Owner of all Sovereignty, The Owner of All)
৮৪. আর রাʾউফ (الرؤوف) – কোমল হৃদয় (The Kind, The Pitying, The Clement)
৮৫. আল আʿওউফ (العفو) – ক্ষমাকারী (The Pardoner, The Effacer, The Forgiver)
৮৬.আল মুনতাকীম (المنتقم) – প্রতিশোধ গ্রহণকারী (The Avenger)
৮৭. আল হাদী (الهادي) – পথ প্রদর্শক (The Guide, The Way)
৮৮. আন নাফীʿ (النافع) – কল্যাণকর্তা (The Propitious, The Benefactor, The Source of Good, The Creator of Good)
৮৯. আদ দারর (الضار) – ( তাগুতের) অকল্যাণকর্তা (The Distressor, The Harmer, The Afflictor, The Creator of The Harmful)
৯০. আল মানিʿ (المانع) – প্রতিরোধকারী (The Withholder, The Shielder, The Defender, The Preventer of Harm)
৯১. আল মুগনী (المغني) – অভাবমোচনকারী (The Enricher, The Emancipator)
৯২. আল গানী (الغني) – সম্পদশালী (The Rich One, The Independent)
৯৩. আল জামিʿ (الجامع) – একত্রীকরণকারী (The Gatherer, The Unifier)
৯৪. আস সাবুর (الصبور) – ধৈর্যশীল (The Timeless, The Patient One)
৯৫. আল রশীদ (الرشيد) – সত্যদর্শী (The Guide to the Right Path, The Righteous Teacher)
৯৬. আল ওয়ারিছ (الوارث) – উত্তরাধিকারী (The Heir, The Inheritor of All)
৯৭. আল বাকী (الباقي) – চিরস্থায়ী (The Immutable, The Infinite, The Everlasting One)
৯৮. আল বাদীʿ (البديع) – অভিনব সৃষ্টিকারী (The Incomparable, The Unattainable, The Originator)
৯৯. আন নূর (النور) – জ্যোতি (The Light)

জীবনের সব গোনাহ মাফ পেতে চান? ফরয নামাজের পর এই ৪টি দোয়া আমল করুন।।

যে ব্যক্তি ফরয নামাজগুলোর পর দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করে আমল করবে, মহান আল্লাহ তায়ালা ওই প্রার্থনাকারীর সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। গুনাহ মাফের এই গুরুত্বপূর্ণ দোয়াটি হচ্ছে-

আরবি উচ্চারণ: سُبْحَانَ اللهِ، اَلْحَمْدُ ِللهِ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إلهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ- বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার)। আলহাম্দুলিল্লা-হ (৩৩ বার)। আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহু; লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর (১ বার)।

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা পূতপবিত্র। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন উপাস্য একক আল্লাহ ব্যতীত; তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৬, ৯৬৭, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাত পরবর্তী যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর উক্ত দোআ পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ মাফ করা হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়’। (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৭)।

বিস্ময়কর কারনে যেভাবে পৃথিবীর কেন্দ্রতে অবস্থিত কাবা শরীফ! জেনে অবাক হবেন…

মুসলমানদের কিবলা পবিত্র কাবাঘর। হজের মৌসুমে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় গমন করেন। পবিত্র কোরাআন ও হাদিসের ব্যখ্যায় পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে মক্কা নগরের অবস্থান হওয়ায় ‘বায়তুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা প্রথম দুনিয়ায় কাবাগৃহ নির্মাণ করে এখানে ইবাদত করেন। কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লার ছায়াতলে সোজাসুজি সপ্তম আসমানে অবস্থিত মসজিদ বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে ভিত্তিস্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালা কাবাগৃহকে মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থলরূপে নির্দিষ্ট করেন।

মুসলিম মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থল কাবা শরীফ পৃথিবীর ঠিক কেন্দ্রতেই অবস্থিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে অনেকেই এই বিষয়টিকে উড়িয়ে দিতে চান।

পবিত্র কাবা শরীফের অবস্থান ও সৃষ্টিকাল নিয়ে ইসলামের ব্যখ্যা

বেহেশত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর আদি মানব-মানবী হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ প্রার্থনা করেন। আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া কবুল করে কাবাগৃহকে ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। এরপর হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনে কাবা শরিফ ধসে যায়। পরে আল্লাহর হুকুমে হজরত ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফের নির্মাণ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের অমর কীর্তি ও অন্যতম অবদান।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি পবিত্র কাবাঘর পুনঃনির্মাণের সৌভাগ্য অর্জন করলেও একমাত্র হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মাণের কথা আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমের অংশ বানিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য সংরক্ষিত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে কারিমে ওই ঘটনাটি খুবই চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তারা দোয়া করেছিল, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের এ আমলটুকু কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। ওহে পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো এবং আমাদের বংশধর থেকে একটি অনুগত জাতি সৃষ্টি কর। আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু। হে আমাদের প্রভু! এ ঘরের পড়শিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠাও, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতগুলো পাঠ করবেন। তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ -সূরা বাকারা : ১২৭-১২৯

কাবাগৃহের নির্মাণ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়া করেছিলেন সেগুলো যত্নের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার মানুষের স্বভাব হলো, সমাজে বা ধর্মীয় কাজে সামান্য অবদান রেখে মানুষের সামনে তা বারবার উল্লেখ করে এবং আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায়। অথচ সরাসরি আল্লাহতায়ালার ঘর নির্মাণ করছেন, তবুও তার মনে এক বিন্দু অহঙ্কার নেই। ছিল বিনয়পূর্ণ মিনতি। বিনয়াবনত কণ্ঠে বারবার তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! মেহেরবানি করে আমাদের এ খেদমতটুকু কবুল করে নাও।’ দোয়ার দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন, ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো।’

বস্তুত দোয়াতে মানব জাতির জন্য শিক্ষা রয়েছে, মসজিদ নির্মাণ তো একটি নিদর্শন। তা মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সামনে নিজেকে সঁপে দেয়া। তার বিধি-নিষেধ বিনাবাক্যে মেনে নেয়া। এজন্য মসজিদ নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবনের মূল লক্ষ্য সাধনের দোয়া করেছেন। সে অমূল্য দোয়া শুধু নিজের জন্যই নয় বরং অনাগত বংশধরের জন্যও করেছেন। অতঃপর এ ঘরের মর্যাদা রক্ষা ও তার জিয়ারতের রীতিনীতি বাতলে দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যেকটি দোয়া কবুল হয়েছে। ইতিহাসে আছে, তার বংশধরের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর আজ্ঞাবহ ছিল। এমনকি জাহেলিয়াতের আমলে আরবের সর্বত্র যখন মূর্তি-পূজার জয়জয়কার ছিল তখনও ইবরাহিমি বংশের কিছু লোক একত্ববাদ ও পরকালে বিশ্বাসী এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্যশীল ছিলেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক বায়তুল্লাহ নির্মিত হওয়ার পর থেকে সব যুগেই তার জিয়ারতও অব্যাহত ছিল। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সে দোয়ারই ফসল, যা তিনি বায়তুল্লাহ নির্মাণকালে করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আমার বাবা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং আমার ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম

ইসলামের ইতিহাসে ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ আদায় করেন। তিনি যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেন, প্রতিবছর ৮ থেকে ১৩ জিলহজ মক্কা মুকাররমা এবং এর আশপাশের এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সেভাবেই পবিত্র হজ পালিত হয়ে আসছে।